Sunday, January 4, 2026
spot_img
Homeখেলার জগৎসুপার ওভারে ভাঙল স্বপ্ন রাইজিং টাইগারদের

সুপার ওভারে ভাঙল স্বপ্ন রাইজিং টাইগারদের

কাতারের দোহায় এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের শিরোপা লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গেল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তবে নাটকীয়তায় ভরা এই ফাইনালে সুপার ওভারের বাধা পেরোতে পারেনি রাইজিং টাইগাররা। শিরোপা জিতে নিয়েছে পাকিস্তান শাহিনস, যা তাদের রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা।

১২৬ রানের মাঝারি লক্ষ্য সামনে পেয়েও ব্যাটিং বিপর্যয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ ‘এ’। ৫৩ রানের মধ্যেই দল হারায় ৭ উইকেট। এমন অবস্থায় আশার আলো দেখা যায় যখন মধ্যক্রমের দুই ব্যাটার ইনিংস গুছিয়ে নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা জয়ের দ্বারে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হলে ৯৬ রানে নবম উইকেট হারায় দল।

এই অবস্থায় যেন নতুন গল্প লিখতে নামেন শেষের দুই ব্যাটার। পেসার রিপনের সঙ্গে যোগ দেন আরেক পেসার সাকলাইন। বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখানো রিপন ব্যাটিংয়েও খেলেন গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। সাকলাইনের অপরাজিত ১৬ রানও দলকে ম্যাচে ফেরায়। বিশেষ করে উনিশতম ওভারে ২০ রান তুলে ফাইনালে নতুন উত্তেজনার জন্ম দেন তারা। শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৭ রান। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান পুরোপুরি তুলতে ব্যর্থ হলেও শেষ বলে এক রান নিয়ে ম্যাচটিকে টাই করেন তারা। ফলে গড়ায় সুপার ওভারে।

সেমিফাইনালের স্মৃতি তখনো ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের চোখে মুখে। তবে ফাইনালের সুপার ওভারে আর সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি হয়নি। পাকিস্তান শাহিনসের পেসার দানিয়ালের করা ওভারের একটি ওয়াইড ডেলিভারি থেকে ৫ রান এলেও বলখরচ বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল থামে মাত্র ৬ রানে। তিন বলেই সব ব্যাটার বিদায় নেয়ায় বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ মিলেনি।

রক্ষণ করতে নেমে রিপনের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৭ রান। কিন্তু পাকিস্তানের দুই ব্যাটার সাদ মাসুদ এবং মাজ সাদাকাত চার বলেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেন। ফলে দারুণ লড়াই করেও ট্রফিটি হাতছাড়া হয় রাইজিং টাইগারদের।

ম্যাচের শুরুতে বল হাতে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শাহিনসকে ১২৫ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ ‘এ’। ইনিংসের নায়ক ছিলেন ডানহাতি পেসার রিপন, তার ৩ উইকেট দলের লড়াইকে সহজ করে তোলে। বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুলও নিয়েছেন ২ উইকেট। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন সাদ মাসুদ। আরাফাত মিনহাসের ব্যাটে আসে ২৫ রান।

রান তাড়ায় শুরুটা ভালোই করেন ওপেনার হাবিবুর। মাত্র ১৬ বলে ২৬ রান করে তিনি দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু তার বিদায়ের পরপরই যেন ছন্দপতন ঘটে। ৩৬ থেকে ৫৩ রানে পরিণত হয় ৬ উইকেট হারানোর ধস। মধ্য ও নিম্নক্রমও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। এরপর আসে শেষের সেই ঝড়ো লড়াই, যেটি ম্যাচটিকে ফিরিয়ে আনে সমতায়।

তবুও সুপার ওভারের বাধা পেরোতে না পারায় বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় শেষে উদীয়মানদের এশিয়া কাপে ফাইনাল খেলার সুযোগ পেলেও শেষ হাসি হাসে পাকিস্তান শাহিনসই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments