যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় ক্রমেই বেশি সংখ্যক ভোক্তা সাশ্রয়ী বাজারের দিকে ঝুঁকছেন, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ব্যবসা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে বাজার দখল বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিশাল পরিসর ও ক্রয়ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ করে আসছে। পাশাপাশি তারা বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে কর্মীদের মজুরি সমন্বয়, স্টোর আধুনিকায়ন এবং অনলাইন বাণিজ্যের জন্য শক্তিশালী লজিস্টিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে। চলমান সময়ের আর্থিক চাপ এবং মুদ্রাস্ফীতি যখন ভোক্তাদের ব্যয় সক্ষমতাকে সংকুচিত করে তুলেছে, তখন এসব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে।
সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি বেড়েছে ৪.৫ শতাংশ। গ্রাহকদের স্টোরে যাতায়াত বেড়েছে এবং প্রতি ভিজিটে ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি ও মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে, যা আসন্ন ছুটির মৌসুমকে শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ আয়ের ক্রেতারা খরচ বাঁচানোর উপায় খুঁজতে এই খুচরা জায়ান্টের স্টোর ও ওয়েবসাইটের দিকে বেশি ঝুঁকছেন, যা প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বলেন, তারা বাজার শেয়ার বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন, ডেলিভারির গতি উন্নত হয়েছে এবং মজুদ ব্যবস্থাপনাও স্থিতিশীল রয়েছে। তার ভাষায়, বছরের বাকি সময়টিতে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখার মতো প্রস্তুতি প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে।
প্রধান নির্বাহী আরও জানান, তিনি প্রায় ১১ বছর দায়িত্ব পালনের পর শিগগিরই অবসরে যাচ্ছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্র কার্যক্রমের প্রধান কর্মকর্তা।
টার্গেট এবং ডলার স্টোরের ওপর বাড়ছে চাপ
এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি দেখা যাচ্ছে আরেক খ্যাতনামা খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটি গত চার বছরের বেশি সময় ধরে স্থবির বিক্রির সঙ্গে লড়াই করছে। সেখানে বড় সুবিধা পাচ্ছে খুচরা জায়ান্টটি তার শক্তিশালী গ্রোসারি ব্যবসার কারণে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য ভোক্তারা নিয়মিত স্টোরে যায়, আর এই চাহিদাকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাকসবজি ও তাজা পণ্যের বিভাগকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নত করেছে।
পোশাক এবং গৃহস্থালি সামগ্রীর ক্ষেত্রেও ব্যবধান কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ব্যয় সংকোচনের সময় ভোক্তাদের বড় অংশই টার্গেটের তুলনায় সাশ্রয়ী বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে।
এছাড়া নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের একটি অংশও ডলার জেনারেল ও অন্যান্য ছাড় বিক্রেতাদের থেকে সরে এসে এই বৃহৎ খুচরা প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন। বাজার কাঠামোর এই পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানটির জন্য আরও বিস্তার ও স্থায়িত্ব এনে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও তাদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



