শীতে আগুনে দগ্ধ হয়ে বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শীত নিবারণের চেষ্টা করতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে এক বয়স্ক নারীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে কয়েকদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপজেলার হাতিগারা গ্রামের ওই নারী কয়েকদিন আগে গ্রামের বাড়িতে নিজের রান্নার কাজ শেষ করেছিলেন। সকালে প্রচণ্ড শীত অনুভব করায় তিনি চুলার পাশে গিয়ে আগুনের তাপে গা গরম করার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় তাঁর পরনের পোশাকে হঠাৎ আগুনের স্ফুলিঙ্গ লেগে যায়। মুহূর্তেই আগুনের তাপে পোশাক জ্বলে ওঠে এবং তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।

দগ্ধ হওয়ার পর পরিবার ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় তাঁকে পরবর্তী পর্যায়ে বগুড়ার বৃহত্তর চিকিৎসাকেন্দ্র শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কয়েকদিন চিকিৎসা চলার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, তিনি রাতে এই দুঃসংবাদের কথা জানতে পারেন এবং বিষয়টি থানাকে অবহিত করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুলিশ রাতেই মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরিবার শনিবার মরদেহের সৎকার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে শেরপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক জানান, ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

গ্রামের মানুষজন জানিয়েছেন, শীতকালে গ্রামীণ অঞ্চলে আগুন পোহানোর ঘটনা নিয়মিতই ঘটে। বিশেষ করে বয়স্করা শীতের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে চুলার আগুনের পাশে বসেন। তবে অসাবধানতাবশত পোশাকে আগুন ধরে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রতি বছরই শোনা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আগুনের আশপাশে ঢিলেঢালা পোশাক পরা, দীর্ঘ সময় এক জায়গায় আগুনের খুব কাছে বসে থাকা ও অনিরাপদ চুলা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

পরিবারের সদস্যরাও জানিয়েছেন, শীত থেকে বাঁচতেই তিনি আগুনের পাশে বসেছিলেন। তাঁর বয়স বেশি হওয়ায় দ্রুত নড়াচড়া করতে না পারায় আগুনে দগ্ধ অংশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাঁকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এই দুঃখজনক ঘটনা আবারো স্মরণ করিয়ে দেয়, শীতকালে আগুন পোহাতে গেলে সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিরাপদ উপায়ে শীত নিবারণের ব্যবস্থা করা এবং আগুনের উৎসের আশপাশে সতর্ক থাকা জরুরি। গ্রামীণ অঞ্চলে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এমন দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed