২০২৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে ইতিমধ্যেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক ক্রিকেট সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে এবারের আসরের পূর্ণাঙ্গ গ্রুপিং ও ম্যাচ সূচি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে এই মহাযজ্ঞের, আর ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। মোট ২০টি দল চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নেবে প্রথম পর্বে। প্রতিটি গ্রুপ থেকেই দুটি করে দল যাবে পরবর্তী ধাপ সুপার এইটে, যেখানে মোট আটটি দল পুনরায় দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লড়াই করবে সেমিফাইনালের টিকিটের জন্য। এরপর হবে নকআউট পর্ব, যেখানে সেমিফাইনালের দুই জয়ী দল উঠবে ফাইনালে।
ঘোষিত সূচিতে অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল কোন দল কোন গ্রুপে পড়বে এবং ঐতিহ্যগত প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সম্ভাব্য লড়াই কখন হবে। অনুমিতভাবেই ক্রিকেট বিশ্বের দুই ঐতিহ্যবাহী প্রতিপক্ষ ভারত ও পাকিস্তান পড়েছে একই গ্রুপে। এতে গ্রুপ পর্বেই বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথ দেখার সুযোগ পাবে দর্শকরা। ভারতের ও পাকিস্তানের সঙ্গে এ গ্রুপে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া এবং নেদারল্যান্ডস। এই গ্রুপকে অনেকেই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গ্রুপগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের জন্য এবারের বিশ্বকাপে শুরুটা হবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্রুপ সি তে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দল। সঙ্গে রয়েছে নেপাল ও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া ইতালি। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দলের দায়িত্বশীলরা ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে গ্রুপ পর্ব থেকে সুপার এইটে পৌঁছাতে প্রতিটি ম্যাচই হবে তাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো অভিজ্ঞ দলগুলোর বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স ছাড়া পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পথ কঠিন হবে।
গ্রুপ বি তে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ওমান। এ গ্রুপে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বড় দলের তকমা অস্ট্রেলিয়ার। তবে সাম্প্রতিক ফরমে থাকা আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সুযোগ পেলেই যে বড় দলকে বিপদে ফেলতে পারে, তা অতীতের বহু ম্যাচই প্রমাণ করে। ওমানের উপস্থিতি এ গ্রুপে বাড়তি বৈচিত্র্য যোগ করেছে, যারা মাঝে মাঝেই টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে চমক দেখিয়ে থাকে।
গ্রুপ ডি তে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, কানাডা ও আমিরাত। এ গ্রুপে আফগানিস্তানের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে বিশেষভাবে নজরে রেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। স্পিন নির্ভর দলটি যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই হুমকি হতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলো স্বাভাবিকভাবেই এ গ্রুপে ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত।
প্রথম পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সুপার এইটে যাবে। এই পর্বে দলগুলোর সামনে থাকবে নতুন সমীকরণ, কারণ পুনরায় গ্রুপ ভাগ হয়ে দলগুলো মুখোমুখি হবে ভিন্ন প্রতিপক্ষের। যে দুটি দল সুপার এইট থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে তাদের জন্য অপেক্ষা করবে শিরোপার পথ। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ। পুরো সূচি দেখে বোঝা যায় যে এবারের বিশ্বকাপ আগের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং উত্তেজনাপূর্ণ হবে।



