Sunday, November 30, 2025
spot_img
Homeসম্পাদকীয়রাজধানীর ট্র্যাজেডিতে নতুন বিতর্কের ঝড়

রাজধানীর ট্র্যাজেডিতে নতুন বিতর্কের ঝড়

রাজধানী ওয়াশিংটনের নিকটবর্তী এলাকায় টহলরত অবস্থায় দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো এক হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আফগানিস্তান থেকে আসা এক শরণার্থীর আকস্মিক হামলায় গুরুতর আহত হন দুই সদস্য। তাদের মধ্যে তরুণী গার্ডসদস্যটি বৃহস্পতিবার মারা যান, আর অপর সদস্যের পরিবার এখন হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সামাজিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের মোতায়েন শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। কেউ কেউ মনে করেছিলেন যে রাজধানীতে সৈন্য মোতায়েন অযৌক্তিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। তবে অনেকেই মত দিয়েছেন যে এই বাহিনীর উপস্থিতি অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তাদের কার্যক্রমকে ভয়প্রদর্শনমূলক বলা কঠিন। বরং রাস্তার আবর্জনা পরিষ্কারের মতো কাজে সৈন্যদের নিযুক্ত করা সম্পদের অপচয় বলে ভাবা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে অতিরিক্ত পাঁচশ গার্ড সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা চরমপন্থার ইঙ্গিত নয়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এই ঘটনার জন্য তার পূর্বসূরিকে দায়ী করেন। হামলাকারী ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র বিশৃঙ্খল অবস্থায় দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছিল। তিনি নিজ দেশে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা করেছিলেন এবং কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছিলেন। সম্প্রতি তিনি আশ্রয় অনুমোদন পান এবং একটি বিশেষ অভিবাসন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় ছিলেন, যদিও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি তখনো পাননি।

ঘটনার পরপরই মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দফতর আফগানিস্তান থেকে সব ধরনের নতুন অভিবাসন প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। প্রেসিডেন্ট আরও ঘোষণা করেন যে পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় থেকে আসা সব আফগান নাগরিকের নথি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তকারীরা এখন খুঁজে দেখছেন কোন নিরাপত্তা সংকেতগুলো নজর এড়িয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই নানা মহলে অভিযোগ ছিল যে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া যথেষ্ট কঠোর নয়। পূর্ববর্তী প্রশাসনের কাবুল পতনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি না থাকার কারণে ভুল লোকজন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পেরেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের শনাক্ত করে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলেও অনেকে মনে করছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় সাতাত্তর হাজার আফগান শরণার্থীর অবস্থান অনিশ্চিত করে তোলা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এদের মধ্যে বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন, সৈন্যদের সহায়তা করেছেন, এমনকি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করেছেন। তাদের স্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা নিয়ে কংগ্রেসের উভয় দল থেকেই সমর্থন এসেছে। যারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের শাস্তি দিলে ভবিষ্যতে বিদেশে মার্কিন সহযোগীদের প্রেরণা নষ্ট হবে।

একই সময়ে প্রেসিডেন্টের এক বক্তব্যে নতুন আফগান শরণার্থীদের সঙ্গে মিনেসোটার সোমালি কিছু অভিবাসীর প্রতারণা কেলেঙ্কারির তুলনা করাকে অনেকেই বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক বলে মনে করেছেন। ওই প্রতারণার ঘটনায় শিশুদের খাদ্য সহায়তার কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও দুই বিষয়কে একসঙ্গে উপস্থাপন করা প্রশ্ন তুলেছে।

একসময় এক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ৯/১১ হামলার ঠিক পরেই ওয়াশিংটনের একটি মসজিদে গিয়ে ঘোষণা করেছিলেন যে ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু নয়। আজকের এই ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেয় যে দুই দশক আগে শুরু হওয়া আফগান যুদ্ধ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক বাস্তবতায় গভীর প্রভাব ফেলে যাচ্ছে। মর্মান্তিকভাবে, বুধবারের হামলার শিকার দুই গার্ড সদস্যের কেউই ৯/১১ ঘটনার সময় জন্মগ্রহণও করেননি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments