যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে গ্যাসোলিনের দাম। চার বছর ছয় মাস পর প্রথমবার দেশের গড় গ্যাসের দাম তিন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এএএ এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসের গড় মূল্য ছিল ২.৯৯৮ ডলার, যা আগের দিনের ৩.০০১ ডলার থেকে কম। মাত্র এক সপ্তাহে গ্যাসের দাম কমেছে প্রায় ছয় সেন্ট, যা দীর্ঘদিনের উচ্চমূল্যের চাপের মধ্যে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য একটি স্বস্তির সংবাদ।
গ্যাসের এই মূল্যপতন এমন সময়ে এসেছে যখন জীবনযাত্রার ব্যয় দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকান পরিবারের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে। গত বছরের একই সময়ে গ্যাসের গড় দাম ছিল ৩.০৫ ডলার, অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে এখন দাম কিছুটা কম। যদিও গত মাসের কিছু সময় গ্যাসের বার্ষিক তুলনায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল, বর্তমানে সেই চাপ আর নেই।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের দাম আরও কম। এএএ জানিয়েছে, অন্তত ১৮টি অঙ্গরাজ্যে গড় দাম ২.৭৫ ডলারেরও নিচে। এসব রাজ্যের মধ্যে রয়েছে নিউ মেক্সিকো, সাউথ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিন, আইওয়া এবং কলোরাডোর মতো অঞ্চল।
২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রেও গ্যাসের দাম ইতিহাসে প্রথমবার পাঁচ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সেই চাপে জরুরি মজুদ থেকে তেল ছাড়তে বাধ্য হয় প্রশাসন। পরিস্থিতি তখনকার তুলনায় অনেক স্থিতিশীল হলেও বাজার এখনও সংবেদনশীল।
বর্তমান প্রশাসনের প্রধান মনোযোগ জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা। পদধারী শীর্ষ নেতৃত্ব শুরু থেকেই জ্বালানি উত্পাদন বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার বার্তা দিয়ে আসছেন। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময় পরই তিনি দাভোসে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনায় ওপেক সদস্যদের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।
যদিও বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ও গ্রোসারি পণ্যের দাম কমেনি এবং বিদ্যুতের বিল বাড়ছে, গ্যাসের মূল্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আছে। প্রধান কারণ হলো অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক দাম গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রায় ৮১ ডলার প্রতি ব্যারেল। গত বছর এই সময়ে দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। বর্তমানে দাম নেমে এসেছে মাত্র ৫৯ ডলারে।
বিশ্লেষকেরা জানাচ্ছেন, সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি থাকায় বাজারে তেলের দাম কমছে। যুক্তরাষ্ট্রে তেল উৎপাদন যদিও রেকর্ড ছুঁয়েছে, তা গত বছরের তুলনায় খুব বেশি বাড়েনি। তবে ওপেক এবছর উৎপাদন বাড়িয়েছে, যা বাজারকে আরও সরবরাহমুখী করেছে।
তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা সবসময়ই বাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে আবারও তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠতে পারে, কারণ দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদের অধিকারী।
তবু ওয়াল স্ট্রিটের অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, তেলের দাম কিছুদিন নিম্নমুখী থাকতে পারে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জেপিমরগান চেজ জানিয়েছে, ওপেক যদি সরবরাহ কমানোর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আগামী বছরের শেষ দিকে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি পঞ্চাশ ডলারেরও নিচে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৬ সালের শেষে তা চল্লিশ ডলারের ঘরেও পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে গড় দাম নামতে পারে ব্যারেলপ্রতি বেয়াল্লিশ ডলারে এবং বছরের শেষ দিকে তা তিরিশ ডলারের ঘরেও প্রবেশ করতে পারে।



