মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদধারী ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করার পরিকল্পনা করছেন। কোন কোন দেশকে এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বলে তিনি বিবেচনা করছেন, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তাঁর এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ওয়াশিংটনে একজন আফগান বংশোদ্ভূত ব্যক্তি দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগের ঘটনার মাত্র এক দিন পর প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে নিরাপত্তা এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট একে অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্থিতিশীল করার সুযোগ করে দিতে তিনি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করবেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে।
পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় দেওয়া বিপুল সংখ্যক অভিবাসন অনুমোদনের বিষয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর পূর্বসূরির সময় দেওয়া লাখ লাখ অনুমোদন পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনে বাতিল করা হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত সম্পদ নয় বলে বিবেচিত যে কাউকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য অভিবাসনপ্রত্যাশী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নতুন করে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে।
অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এর আগে বর্তমান প্রশাসন ঘোষণা দেয় যে ১৯টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগত নাগরিকদের গ্রিনকার্ড পর্যালোচনার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিভিন্ন উদ্বেগকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগের প্রধান দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট তাঁকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে ঝুঁকিপূর্ণ বা উদ্বেগজনক তালিকায় থাকা ১৯টি দেশ থেকে আগত প্রত্যেক আবেদনকারীর গ্রিনকার্ড কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে প্রশাসন নিশ্চিত করতে চায় যে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনোভাবে হুমকির মধ্যে না পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। অভিবাসন প্রক্রিয়া যে আরও দীর্ঘ এবং জটিল হবে, তা এখনই স্পষ্ট। সমালোচকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত অনেক পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলবে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রমিক সংকট তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনের সমর্থকরা মনে করছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এটি প্রয়োজনীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অভিবাসন নীতি দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্কিত বিষয়। নতুন এই ঘোষণা সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন। আগামী দিনে এই নীতিগত পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও প্রশাসন দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে তারা অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।



