ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক ফোনালাপের বিষয়টি অবশেষে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান যে আলোচনা হয়েছে, যদিও কথোপকথনের বিস্তারিত জানাতে পুরোপুরি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। উত্তেজনাপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই স্বীকারোক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাংবাদিকেরা যখন এই ফোনালাপ সম্পর্কে জানতে চান, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে অবস্থান করছিলেন। প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে বলেন যে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না, তবে আলাপ হওয়া সত্য। তাঁর এই দ্ব্যর্থক অবস্থান আরও জল্পনা বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে।
আসলে ফোনালাপের কথা ট্রাম্প প্রকাশ করার আগেই বিষয়টি প্রকাশ করেছিল একটি প্রধান মার্কিন সংবাদমাধ্যম। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে চলতি মাসের শুরুর দিকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ হয়। সেখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে এসব বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
যে পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ফোনালাপের ঘটনা স্বীকার করলেন, তা ভেনেজুয়েলা ঘিরে তাঁর সাম্প্রতিক কঠোর মন্তব্যের সঙ্গে বেশ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশটির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষায় বক্তব্য দিলেও কূটনীতির পথ যে পুরোপুরি বন্ধ নয়, তা তাঁর মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়। মাত্র একদিন আগে তিনি বলেছিলেন যে ভেনেজুয়েলার ওপর এবং আশপাশের আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ বন্ধ ধরে নিতে হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা এর পরিণতি সম্পর্কে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এই বক্তব্য কারাকাসে নতুন এক শঙ্কা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে। সাংবাদিকেরা যখন এটি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন যে কোনও হামলার আশঙ্কা আছে কিনা, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন যে এ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর এই মন্তব্য বিশ্লেষকদের মনে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে।
অন্যদিকে ক্যারিবীয় সাগর এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে যে কারাকাস যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারে ভূমিকা রাখছে এবং সে কারণেই অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে গোপন অভিযানের জন্যও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। এসব পদক্ষেপে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে মাদক পাচারের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা। তারা আরও জোর দিয়ে বলেছে যে ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও সামরিক বাহিনী এমন কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতায় ভরপুর। সাম্প্রতিক ফোনালাপ এই অস্থিরতার চিত্রই আরও ঘনীভূত করেছে। আলাপের প্রকৃত বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ না হলেও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এর প্রভাব যে গুরুত্বপূর্ণ, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট ।



