একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংস্থার ভ্যাকসিন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, কোভিড উনিশ টিকার কারণে কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং এ বিষয়টি ভবিষ্যতের অনুমোদন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এক অভ্যন্তরীণ স্মারকে সংস্থার প্রধান চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং জৈবপ্রযুক্তি মূল্যায়ন কেন্দ্রের পরিচালক উল্লেখ করেছেন যে স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকা সত্ত্বেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্কুল ও কর্মস্থল সংক্রান্ত নীতির মাধ্যমে টিকা গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়েছিল। স্মারকে বলা হয়েছে, একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণে মোট ছিয়ানব্বইটি মৃত্যুর ঘটনা পরীক্ষা করে দশটি ক্ষেত্রে টিকার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও তিনি এসব মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য বা বিশ্লেষণ কীভাবে করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শিশুদের ক্ষেত্রে কোভিড উনিশ কখনোই অতিমাত্রায় প্রাণঘাতী ছিল না এবং এর প্রভাব এমন সব শ্বাসজনিত রোগের সঙ্গে তুলনীয়, যেগুলোর জন্য প্রতি বছর আলাদা টিকা দেওয়া হয় না।
স্মারকে কর্মকর্তা বলেন, বহু ভ্যাকসিন বিশ্বজুড়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করেছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপকার ঝুঁকির তুলনায় অনেক বেশি। তবে যেকোনো চিকিৎসা পণ্যের মতোই ভ্যাকসিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সঠিক রোগী, সঠিক সময় এবং উপযুক্ত প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় একই পণ্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সংস্থার ভ্যাকসিন অনুমোদন নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা তিনি জানান। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ভ্যাকসিন বাজারজাতের আগে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও শক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য ব্যবহৃত ভ্যাকসিনের অনুমোদনে কঠোরতার পাশাপাশি নিউমোনিয়া প্রতিরোধী টিকার ক্ষেত্রে রোগ হ্রাসে প্রকৃত কার্যকারিতা প্রমাণে আলাদা পরীক্ষা চালানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সংস্থা বার্ষিক ফ্লু ভ্যাকসিন কাঠামো পুনর্মূল্যায়নসহ ভ্যাকসিনের লেবেলিংয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আরও স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেবে বলে স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কীভাবে অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নথিতে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে গবেষণার আকার বড় হবে এবং সময়ও আরও বেশি লাগতে পারে। স্মারকে কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে সংস্থার ভেতরে আলোচনার সুযোগ রয়েছে, তবে এ ধরনের আলোচনা প্রতিষ্ঠানভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে কেউ যদি এসব মৌলিক নীতির সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তাদের পদত্যাগ বিবেচনা করা উচিত।
খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দপ্তরের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে সাম্প্রতিক নীতি অবস্থানটি সেইসব যুক্তির সঙ্গে মিল রেখেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দপ্তরের বর্তমান প্রধান ব্যক্তির পক্ষ থেকে উঠে এসেছে। তিনি অতীতে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং টিকা বিষয়ক একটি বিতর্কিত সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
দপ্তরপ্রধান দায়িত্ব গ্রহণের পর mRNA ভ্যাকসিন উন্নয়নে ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেন, রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ভ্যাকসিন উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের অপসারণ করেন এবং সংস্থার তথ্যভাণ্ডারে এমন কিছু দাবি যুক্ত করতে বলেন, যেগুলো বিশেষজ্ঞদের মতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর। তাঁর মনোনীত ইমিউনাইজেশন প্র্যাকটিসেস উপদেষ্টা কমিটি আগামী সপ্তাহে শিশুদের টিকাদান সূচি এবং হেপাটাইটিস বি টিকার সময়সূচি নিয়ে বৈঠকে বসবে। গত তিন দশক ধরে জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস বি টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার সুপারিশ চালু রয়েছে এবং এ পদ্ধতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মধ্যে এ রোগ প্রায় নির্মূল হয়েছে। কোনো নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া না গেলেও নতুন উপদেষ্টা কমিটি এ সূচি কয়েক মাস বা বছর পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।



