বাংলাদেশে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ভুটানের সরকারের প্রধান ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সোমবার সকাল প্রায় সাড়ে আটটার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি দেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। ভুটানের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফরটি দুই দেশের সহযোগিতার ধারাকে আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিমানবন্দরে ভুটানের সরকারি প্রতিনিধিকে বিদায় জানান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্রসচিব। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়, যা ভুটানের সরকারের প্রতিনিধির প্রতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্মান প্রদর্শনের একটি অংশ।
ভুটানের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল সংযোগ খাতে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা চুক্তিটি চিকিৎসা সেবা উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়। ডিজিটাল সংযোগ বিষয়ক সমঝোতা স্মারকটি ইন্টারনেট সুবিধার উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন ব্যান্ডউইথ সহযোগিতা এবং টেকনোলজি ভিত্তিক তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নতুন পথ খুলে দেয়। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ার ফলে আঞ্চলিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
সফরকালে ভুটানের সরকারের প্রধান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ট্রানজিট সুযোগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো বহুমাত্রিক বিষয়ে আলোচনা হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও আধুনিক রূপ দিতে উভয় পক্ষ বিভিন্ন প্রস্তাব ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করে।
এ ছাড়াও ভুটানের প্রতিনিধি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নধারা, ভুটানের অগ্রগতি, দুই দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, পারস্পরিক বিনিয়োগ সম্ভাবনা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির নানা দিক উঠে আসে। ভুটান সরকারের প্রতিনিধি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সফরের সময় ভুটানের প্রতিনিধি বাংলাদেশের জনগণের আতিথেয়তা এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং সামাজিক অগ্রগতির ধারার প্রশংসাও উঠে আসে তার মন্তব্যে।
এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জানানো হয় যে ভুটানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে বাণিজ্য, কৃষি, জলবিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে এগিয়ে চলছে। দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দলসমূহ ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়।
ভুটানের প্রতিনিধির এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় আস্থা ও সহযোগিতার এই ধারায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দুই পক্ষই।



