বহু বছর ধরে যত্নভাতা গ্রহণকারীদের প্রতি কঠোর ও অমানবিক আচরণ যে কতটা গভীরে প্রোথিত ছিল তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক স্বাধীন পর্যালোচনায়। যুক্তরাজ্যের কল্যাণ ব্যবস্থা পরিচালনাকারী দপ্তরের নীতি অগ্রাধিকার ও নেতৃত্বে বড় ধরনের ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল, এবং সাম্প্রতিক তদন্ত সেই অক্ষমতার আরও প্রমাণ দিয়েছে। এক স্বাধীন বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে করা এই পর্যালোচনা তুলে ধরেছে যে যারা প্রতিবন্ধী আত্মীয়কে সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা সেবা দেন, সেই ভাতা গ্রহণকারীদের বিষয়ে দপ্তরের মনোযোগ ছিল প্রায়শই গৌণ। অধিকাংশ দাবিদারই বয়স্ক নারী হওয়া সত্ত্বেও এই ভাতাকে বছরের পর বছর অবহেলা করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে পরিবর্তনের চেষ্টা শুরু করেছে এবং আয়ের সীমা বাড়িয়ে ভাতা বজায় রাখার সুযোগ কিছুটা সহজ করেছে। এখন দাবিদাররা কর পরবর্তী সপ্তাহে ১৯৬ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন ভাতা হারানো ছাড়াই। তবে প্রকৃত সংস্কারের পথ এখনো দীর্ঘ। ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বকেয়া ঋণের নিষ্পত্তি কীভাবে হবে তা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি। ভাতার প্রকৃত কাঠামো, যেখানে সামান্য আয়ের বৃদ্ধি পুরো ভাতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি করে, সে অসামঞ্জস্য দূর করার নির্দিষ্ট প্রস্তাবও সামনে আনা হয়নি। একই সঙ্গে বহু দাবিদার যাদের বিরুদ্ধে দপ্তরের পরামর্শে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছিল, তাদের দণ্ড মওকুফ হবে কি না বা ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না সে সিদ্ধান্তও স্পষ্ট নয়।
এর পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে দপ্তরের সামগ্রিক সক্ষমতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে। ছয় বছর আগে জাতীয় নিরীক্ষা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি অতিরিক্ত অর্থ প্রদান সংক্রান্ত বড় ধরনের অনিয়মের কথা প্রকাশ করেছিল। তখন আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। দপ্তরের কাছে দাবিদারদের আয়ের তথ্য থাকা সত্ত্বেও সতর্কবার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তার প্রায় অর্ধেকই অনুসরণ করা হয়নি। ফলে বহু দাবিদার নিজের হিসাব নিজেকেই করতে হয়েছে বা অজান্তেই হাজার হাজার পাউন্ডের ঋণে জড়িয়ে পড়েছেন। বছরে একবার অতিরিক্ত ভাতা পেলে সেটাই প্রায় চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
২০২০ সালে দাবিদারদের যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেটি পর্যালোচনায় সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আয়ের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে গড় আয় নিরূপণ করার যে পদ্ধতি বলবৎ ছিল, তা বাস্তবে অনুসরণ করা প্রায় অসম্ভব ছিল। এর ফল কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, মানসিক আঘাতও ছিল গভীর। বিশেষ করে যারা মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই চরম লজ্জাবোধ, আতঙ্ক ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপে ভুগেছেন। নতুন প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে সেবাখাতে সংস্কারের কথা বলা হলেও তথ্য বিশ্লেষণকারী যে অ্যালগোরিদমের ওপর নির্ভর করা হয়েছিল, তাতেই গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি ছিল। পর্যালোচনায় দেখা গেছে বাড়তি স্বয়ংক্রিয়তা নয়, বরং মানবিক যোগাযোগ যেমন ফোনকল এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণই প্রকৃত সহায়তা দিতে পারে।
এই পর্যালোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এটি প্রথম মূল্যায়ন নয়। প্রকৃত পরিবর্তন নির্ভর করছে কত দ্রুত এবং কত দক্ষতার সঙ্গে সংশোধনগুলো বাস্তবায়ন করা হয় তার ওপর। আগের সরকার যে সুস্পষ্ট ত্রুটিগুলো উপেক্ষা করে গিয়েছিল তা দুঃখজনক। এখন দায়িত্ব বর্তমান প্রশাসনের ওপর। বকেয়া ঋণের দ্রুত পর্যালোচনা, পুরোনো নিয়ম বাতিল এবং দাবিদারদের প্রতি অধিক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।



