Sunday, November 30, 2025
spot_img
Homeবিজনেসব্ল্যাক ফ্রাইডেতে কেনাকাটার জোয়ার অব্যাহত

ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে কেনাকাটার জোয়ার অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্রে ব্ল্যাক ফ্রাইডে আর সেই অতীতের মতো বিশৃঙ্খল কেনাকাটার উন্মাদনা না থাকলেও দিনটি এখনও দেশের সর্ববৃহৎ শপিং দিবস হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। বহু ভোক্তা এখনও বিশেষ ছাড়ের আশায় এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন, যা এটিকে ছুটির মৌসুমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চলতি বছরের ব্ল্যাক ফ্রাইডে এমন সময়ে এসেছে যখন খুচরা বিক্রেতারা অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং রাষ্ট্রপতির আরোপিত বহুমুখী আমদানি শুল্কের ওঠানামার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ব্যয় নিজেদের ওপর বহন করছে এবং মূল্য না বাড়িয়ে নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা সূচক মাসটিতে নেমেছে এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে, যখন শুল্ক ঘোষণা, সরকারি অচলাবস্থা, দুর্বল নিয়োগ এবং স্থায়ী মূল্যস্ফীতির প্রভাব অর্থনীতিতে চাপ ফেলতে শুরু করে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে একটি গবেষণা সংস্থা।

তবে বড় খুচরা বিক্রেতাদের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক বিক্রয় রিপোর্টে দেখা গেছে, ভোক্তারা এখনও খরচ করতে আগ্রহী আছে। যদিও অনেক খুচরা নির্বাহী জানিয়েছেন, ক্রেতারা এখন আরও বেশি বাছাই করে পণ্য কিনছেন এবং ছাড়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কানেকটিকাটের এক উদ্যোক্তা জানান, শুল্ক নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে তিনি এ বছর গাড়ি কেনা স্থগিত রেখেছেন। তিনি সাইবার মানডেতে খেলনা কেনার পরিকল্পনা করলেও সেরা ছাড় পাওয়ার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছেন। তার মতে, অনেক ব্যবসা হয়তো শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব ভুলভাবে অনুমান করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

খুচরা বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছে, ব্ল্যাক ফ্রাইডে সপ্তাহে প্রবেশের আগে থেকেই খুচরা বাজারে ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ শপিং সেন্টারের বিপণন প্রধান জানান, নভেম্বরের শেষ কয়েকটি শনিবার অত্যন্ত সফল কেটেছে এবং শুক্রবার সকালেই আগত প্রথম কয়েকশো ক্রেতাকে বিশেষ উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, এ বছর ব্ল্যাক ফ্রাইডে আগের মহামারী পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় বেশি ক্রেতা টানছে।

জাতীয় খুচরা ফেডারেশনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মিলিয়ে ভোক্তারা ১.০১ ট্রিলিয়ন থেকে ১.০২ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার শতাংশ পর্যন্ত বেশি। গত বছর এই সময়কালের বিক্রি ছিল ৯৭৬ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, একটি পেমেন্ট বিশ্লেষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত খুচরা বিক্রি প্রায় তিন দশমিক ছয় শতাংশ বাড়তে পারে, যদিও তা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম। সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, অনিশ্চয়তা থাকলেও এখনই ভোক্তাদের আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।

অনলাইন বিক্রিও এ বছর শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। একটি বিশ্লেষণ সংস্থার তথ্য জানায়, ১ নভেম্বর থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত ভোক্তারা অনলাইনে প্রায় ৭৯.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ বেশি।

একই সঙ্গে শুল্ক খুচরা বিক্রেতাদের পণ্য সংগ্রহ ও মূল্য নির্ধারণকে প্রভাবিত করেছে। অনেকে শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই কিছু পণ্য আগাম আমদানি করেছে। তবে চীনে উৎপাদিত খেলনাসহ বেশ কিছু পণ্যে বাড়তি ব্যয়ের অংশ ভোক্তাদের বহন করতে হচ্ছে। একটি বাজার গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ পণ্যের ৪০ শতাংশের দাম প্রথম চার মাসের তুলনায় অন্তত পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। খেলনা, শিশুপণ্য, গৃহস্থালী পণ্য এবং ক্রীড়া সরঞ্জাম সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে।

বিভিন্ন শপিং মল পরিচালনাকারী এক প্রধান নির্বাহী জানান, এ বছর অনেক দোকান বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে না, কারণ তাদের মজুদ তুলনামূলক কম এবং তারা মূল্য নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইছে। অনেক দোকান এখনো ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে, এবং ব্ল্যাক ফ্রাইডে সপ্তাহান্তে ছাড় আরও বাড়তে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments