ব্রাজিলের সাবেক নেতার আকস্মিক আটক ঘটনা

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্টকে গৃহবন্দী অবস্থায় পায়ের গোড়ালিতে লাগানো নজরদারি যন্ত্র নষ্ট করে ফেলার অভিযোগে ফেডারেল পুলিশ আটক করেছে। নজরদারি যন্ত্রটি বিশেষ একটি ডিভাইস দিয়ে পুড়িয়ে নষ্ট করার পর পুলিশ আশঙ্কা করে যে তিনি পালানোর চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে গত শনিবার তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ডানপন্থী এই সাবেক নেতা ২০২২ সালের নির্বাচনে বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ক্ষমতায় থাকাকালে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার দায়ে গত সেপ্টেম্বরে তাঁকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে এ মামলার আপিল প্রক্রিয়া চলছে।

আটকের পর তাঁকে ব্রাসিলিয়ার ফেডারেল পুলিশ সদর দপ্তরের ১২ বর্গমিটারের একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। এর আগে তিনি পৃথক একটি মামলায় ১০০ দিনের বেশি সময় গৃহবন্দী ছিলেন। গৃহবন্দী অবস্থায় তিনি নজরদারি যন্ত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত করায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর আদর্শিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সেই সময়ে ব্রাজিলের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা প্রত্যাশিত সুফল দেয়নি বলে মনে করা হয়।

ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি তাঁর আটকের নির্দেশ দেন। বিচারপতির মতে, তাঁর সমর্থকেরা বাড়ির সামনে সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করছিলেন, যা গৃহবন্দী অবস্থার তদারকি ব্যাহত করতে পারত। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে।

বিচারপতির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, অবৈধভাবে সমাবেশের পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে। এতে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং পালানোর আশঙ্কা বাড়ে। আদালতের কাছে এমন প্রমাণও রয়েছে যে তিনি এর আগে ব্রাসিলিয়ায় আর্জেন্টিনা দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন।

এদিকে তাঁর আইনজীবীরা আটকের ঘটনাকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য প্রার্থনা সমাবেশের পরিকল্পনা ছিল যা সাংবিধানিক অধিকার। তাঁরা আটকের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী এবং তাঁর সংসদ সদস্য ছেলে ইতিমধ্যেই আদালতের হাত থেকে বাঁচতে দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টের একটি প্যানেল আটকের নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করবেন।

ফেডারেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে গোড়ালির নজরদারি যন্ত্রে অনিয়ম ধরা পড়ে। কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান যন্ত্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং এতে পোড়া দাগ রয়েছে। এক ভিডিওতে তিনি স্বীকার করেন যে কৌতূহলবশত বিশেষ একটি যন্ত্র দিয়ে ডিভাইসটি পোড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশ যন্ত্রটি প্রতিস্থাপন করে এবং আদালতের নির্দেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর আটকের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলের সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে তিনি জানান, সাবেক ব্রাজিলিয়ান নেতার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্মিত ও অসন্তুষ্ট।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed