বিশ্বের বিভিন্ন শহরের প্রকৃত সজীবতা অনুভব করতে চাইলে রাস্তায় হাঁটাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। স্বাধীন দোকানপাট, ছোট ক্যাফে অথবা প্রাণচঞ্চল কোনও বারের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একেকটি শহরের স্বকীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক লিস্টিং গাইড টাইম আউটের ভাষায়, একটি শহরের রাস্তাই স্থানীয় জীবনের সবচেয়ে বাস্তব প্রতিচ্ছবি। সেই ধারণাকে ভিত্তি করেই ম্যাগাজিনটি প্রতিবছর প্রকাশ করে বিশ্বের সবচেয়ে কুল রাস্তার তালিকা, যেখানে অন্তর্ভুক্ত হয় নানা হাঁটাপথ, অলিগলি এবং নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
২০২৫ সালের তালিকায় গুরুত্ব পেয়েছে যে ধারণা তা হলো শহুরে জীবনের প্রাণশক্তি। ম্যাগাজিনটির ভ্রমণ সম্পাদক সিএনএনকে জানিয়েছেন, একটি রাস্তা শহরের সব উজ্জ্বলতাকে এক জায়গায় ধারণ করে। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত সম্পাদক এবং লেখকদের মতামত নেওয়া হয়। প্রত্যেকে তুলে ধরেন নিজেদের শহরের এমন স্থান যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির যোগ্য।
চলতি বছরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর ডাউনটাউন এলাকার রুয়া দো সেনাদো। টাইম আউট জানিয়েছে, নতুন নতুন দোকান ও আড্ডাস্থলের কারণে রাসুটিতে যুক্ত হয়েছে এক ধরনের নতুন উদ্দীপনা। পাশাপাশি আছে এলাকার পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলিও, যেমন আর্মাজেম সেনাদো যেখানে প্রতি সপ্তাহে আয়োজিত হয় জনপ্রিয় সাম্বা সেশন। রিওর একজন ভ্রমণবিশেষজ্ঞ মনে করেন, তালিকায় একটি স্থান পাওয়ায় স্থানীয়দের জন্য এটি গর্বের বিষয়। তার মতে, রুয়া দো সেনাদো শহরের ইতিহাস, বৈচিত্র্য এবং অবিরাম সাংস্কৃতিক গতিময়তার প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে সংগীত, খাদ্যসংস্কৃতি, শিল্প এবং আনন্দমুখর পরিবেশ একসঙ্গে মিলিত হয়।
কোন রাস্তা কুল হিসেবে বিবেচিত হবে তা নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। তবে টাইম আউটের মতে, যেসব রাস্তায় স্বাধীন ব্যবসা, দারুণ খাবারের জায়গা এবং নানা ধরনের বিনোদনের সুযোগ থাকে, সেগুলিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থাপত্যগত দিক থেকে কোনও নির্দিষ্ট ধারণা অনুসরণ করা হয়নি। এটি হতে পারে শহরের মাঝামাঝি কোনো প্রধান সড়ক কিংবা কোনও নিরিবিলি হাঁটাপথ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল সড়ক মালিবু এই তালিকায় ২৫ নম্বরে জায়গা পেয়েছে। সাধারণভাবে এটি একটি মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত হলেও টাইম আউটের মতে, গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলেই এখানে বেশ কিছু আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া যায়। জানুয়ারি মাসের বন্যার পর স্থানীয়দের পারস্পরিক সহযোগিতা রাসুটির প্রতি আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের ওসাকার অরেঞ্জ স্ট্রিট। একসময় এটি ছিল পুরনো জিনিসের বাজার, এখন এটি রেট্রো স্টোর, স্ট্রিটওয়্যার, খোলা আকাশের নিচে খাবার এবং আকর্ষণীয় ককটেলের মিশ্রণে একটি প্রাণবন্ত এলাকা। তৃতীয় স্থানে আছে পর্তুগালের পোর্তোর রুয়া দো বোনজারদিম। এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী মুদি দোকান, বিভিন্ন হোটেল এবং শিল্পসমৃদ্ধ রেস্তোরাঁ। স্থানীয় এক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, তালিকায় জায়গা পাওয়া তাদের জন্য আনন্দের এবং আশা করেন এতে আরও বেশি মানুষ রাসুটির আকর্ষণ জানতে পারবেন।
চেংডুর ফাংহুয়া স্ট্রিট চতুর্থ স্থানে এবং মন্ট্রিয়েলের শেরব্রুক স্ট্রিট ওয়েস্ট পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। মন্ট্রিয়েলভিত্তিক এই রাসাটি ইতিহাসসমৃদ্ধ স্থাপনা, জাদুঘর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ঘেঁষা সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য পরিচিত। নিউইয়র্ক সিটির লোয়ার ইস্ট সাইডের অরচার্ড স্ট্রিট অষ্টম স্থানে জায়গা পেয়েছে। এখানে রয়েছে নানা ধরনের স্বাধীন দোকান ও শিল্পভিত্তিক উদ্যোগ। এলাকার একটি নতুন বইয়ের দোকান এবং পডকাস্ট স্টুডিওর মালিক জানিয়েছেন, এমন তালিকায় থাকা তাদের জন্য সম্মানের।
টাইম আউট জানিয়েছে, এই তালিকা পর্যটক এবং স্থানীয় উভয়ের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। সম্পাদকদের ভাষায়, রাস্তাগুলো স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হলেও কখনও কখনও শহরবাসীর মধ্যেও এমন অনেকে আছেন যারা নিজেদের শহরের কিছু রাস্তাকে এখনো ঘুরে দেখেননি। ভ্রমণকারীদের জন্য এই তালিকা শহর পরিচিতির একটি কার্যকর নির্দেশিকা হতে পারে।
টাইম আউটের ২০২৫ সালের শীর্ষ ১০ কুল রাস্তা
-
রুয়া দো সেনাদো, রিও ডি জেনেইরো
-
অরেঞ্জ স্ট্রিট, ওসাকা
-
রুয়া দো বোনজারদিম, পোর্তো
-
ফাংহুয়া স্ট্রিট, চেংডু
-
শেরব্রুক স্ট্রিট ওয়েস্ট, মন্ট্রিয়েল
-
মন্টাগু রোড, ব্রিসবেন
-
মেবাখুফার, বার্লিন
-
অলিম্পু স্ট্রিট, থেসালোনিকি
-
অরচার্ড স্ট্রিট, নিউইয়র্ক
-
ভিন খান স্ট্রিট, হো চি মিন সিটি



