বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসর শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৬ ডিসেম্বর। তার আগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত নিলাম, যেখানে স্থানীয় ও বিদেশি ক্রিকেটারদের দলে ভেড়াতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। নিলামের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমকে কেন্দ্র করে, যাকে চট্টগ্রাম রয়্যালস কিনেছে সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ টাকায়। নিলাম শেষে কোন দল কত টাকা ব্যয় করল এবং কীভাবে নিজেদের দল সাজাল, সেটিই ছিল সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
কোন দল কত টাকা ব্যয় করল
স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারত। তবে কোনো দলই সেই সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়নি। রংপুর রাইডার্স ব্যয় করেছে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যার মাধ্যমে তারা দলে যুক্ত করেছে ১২ জন স্থানীয় ক্রিকেটার। চট্টগ্রাম রয়্যালস ব্যয় করেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যার মধ্যে শুধু নাঈমকেই কিনতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
সবচেয়ে বেশি ১৩ খেলোয়াড় দলে নেওয়া রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ব্যয় করেছে ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অন্যদিকে কম খরচের তালিকায় আছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস, যারা ১২ জন স্থানীয় ক্রিকেটারকে নিয়ে ব্যয় করেছে মাত্র ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সিলেট টাইটানস ব্যয় করেছে ২ কোটি ৭৪ লাখ এবং ঢাকা ক্যাপিটালস ব্যয় করেছে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
বিদেশি ক্রিকেটার কেনায় সর্বোচ্চ খরচের সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। যদিও নোয়াখালী এক্সপ্রেস, রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ব্যয় করেনি ৫০ হাজার ডলারও। ঢাকা ক্যাপিটালস ব্যয় করেছে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ডলার এবং একমাত্র তারাই নিলাম থেকে তিনজন বিদেশি ক্রিকেটার দলে নিয়েছে।
কোন দল কেমন হলো
নিলাম শেষে দলগুলোর স্কোয়াড আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। স্থানীয় এবং বিদেশি মিলিয়ে সর্বোচ্চ মূল্যে দলে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস, যারা ওপেনার নাঈমকে যুক্ত করেছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায়। রংপুর রাইডার্স দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ দামি ক্রিকেটার হিসেবে দলে নিয়েছে যথাক্রমে তাওহিদ হৃদয়কে ৯২ লাখ এবং লিটন দাসকে ৭০ লাখ টাকায়।
রংপুর রাইডার্স
ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সরাসরি চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, নাহিদ রানা, রাকিবুল হাসান ও মাহমুদউল্লাহসহ স্থানীয় ক্রিকেটারদের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বিদেশি ব্যাটার এমিলিও গে এবং উইকেটকিপার মোহাম্মদ আখলাক।
ঢাকা ক্যাপিটালস
এই দল সরাসরি চুক্তিতে শক্তিশালী লাইনআপ সাজিয়ে নিয়েছে এবং নিলাম থেকে যুক্ত করেছে শামীম হোসেন, সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় ক্রিকেটার। বিদেশিদের মধ্যে এসেছে দাসুন শানাকা ও জুবাইরউল্লাহ আকবর।
সিলেট টাইটানস
দেশি তারকাদের পাশাপাশি তারা যুক্ত করেছে অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও ব্যাটার অ্যারন জোন্সকে। দলটিতে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সুসমন্বয়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় নেওয়া এই দল নিলাম থেকে যুক্ত করেছে তানজিম হাসান, ইয়াসির আলী, আকবর আলী ও মুশফিকুর রহিমসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। বিদেশি তালিকায় রয়েছে দুশান হেমান্ত ও জাহানদাদ খান।
চট্টগ্রাম রয়্যালস
এই দল নিলামে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে। নাঈম ছাড়াও শরীফুল ইসলাম, আবু হায়দার, মুকিদুল ইসলাম এবং বিদেশিদের মধ্যে নিরোশান ডিকভেলা ও অ্যাঞ্জেলো পেরেরাকে যুক্ত করেছে তারা।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস
সবচেয়ে কম খরচে স্কোয়াড সাজালেও দলে নিয়েছে বেশ কিছু কার্যকর ক্রিকেটার। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশিদের মধ্যে আছে ইহসানউল্লাহ এবং হায়দার আলী।
নিলামের পর প্রতিটি দল তাদের কৌশল অনুযায়ী স্কোয়াড সাজিয়েছে। এবার মাঠের লড়াইয়ে কোন দল কতটা সফল হবে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।



