বার্সেলোনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা পাওয়া ফুটবলার কে, এই প্রশ্নে সমর্থকদের মন যে আর্জেন্টাইন মহাতারকার দিকেই ঝুঁকবে তা প্রায় নিশ্চিতভাবেই অনুমেয় ছিল। এবার স্প্যানিশ গণমাধ্যমের এক বিশদ জরিপ সেই ধারণাকেই আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। স্পেনের পরিচিত দৈনিকের আয়োজিত ভ্যালোরেস দেল দেপোর্তে গালা অনুষ্ঠানে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাসে সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলারের স্বীকৃতি পেয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
জরিপে তিনি পিছনে ফেলেছেন সাবেক কাতালান কোচ, মিডফিল্ড কিংবদন্তি, ব্রাজিলিয়ান মায়েস্ত্রো এবং ডাচ ফুটবল দার্শনিকের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের। উপহারটি হাতে তুলে দেন গণমাধ্যমটির পরিচালক, যিনি বিশেষভাবে মায়ামিতে গিয়ে এই সম্মাননা তুলে দেন বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লাবের তারকার হাতে। পুরস্কার পাওয়ার পর এই ফরোয়ার্ড জানান, তিনি এখনও কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে চান, তবে বার্সেলোনা তার কাছে চিরকাল নিজের ঘর হিসেবেই থাকবে এবং তিনি আবার সেখানে ফিরবেনই।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ হলে তিনি ক্যাম্প ন্যুতে সাধারণ সমর্থক হিসেবেই উপস্থিত থাকবেন। শুধু খেলা উপভোগই নয়, দলকে সমর্থন করাও তার কাছে আনন্দের একটি অংশ হবে। ক্লাবটির সঙ্গে তার সম্পর্ক যে কতটা গভীর, তা বোঝা যায় তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানে। ২০০৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার জার্সি গায়ে তিনি খেলেছেন ৮৩৭ ম্যাচ এবং গোল করেছেন ৭০৯টি। একই সঙ্গে জিতেছেন ৩৫টি শিরোপা। এই সব অর্জনের মধ্য দিয়েই কাতালান ক্লাবটি বিশ্বসেরা হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে।
সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলারের স্বীকৃতি পেয়ে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড স্মৃতিচারণে জানান, দীর্ঘ সময় এক ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক সব সময় সহজ হয় না। ভালো দিন যেমন ছিল, তেমনই ছিল কঠিন মুহূর্তও। তবে সেসব অভিজ্ঞতাই তাকে আরও পরিপক্ব করেছে এবং ক্লাবটির সঙ্গে এক অটুট মায়াজালে বেঁধেছে। তিনি স্পষ্টই বলেন, তার ইচ্ছা ছিল পুরো ক্যারিয়ারটি এই ক্লাবের হয়েই কাটানো, কিন্তু নানা পরিস্থিতির কারণে সেটি সম্ভব হয়নি এবং তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
তবু সম্পর্কের গভীরতায় কোনো ফাঁটল তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, বার্সেলোনায় কাটানো প্রতিটি স্মৃতিই তিনি নিজের মধ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে ধরে রাখবেন। মহামারির সময় সমর্থকদের উপস্থিতি ছাড়াই তাকে বিদায় নিতে হয়েছিল, যা ছিল অস্বাভাবিক এবং বেদনাদায়ক। তবুও তিনি কাতালান সমর্থকদের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, এই অনুভূতি তিনি সারাজীবন লালন করবেন।
এই স্বীকৃতি শুধু তার অর্জনের প্রতিফলন নয়, বরং একটি শহর, একটি ক্লাব এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থকের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক গভীর সম্পর্কেরই সম্মাননা। বার্সেলোনা তার কাছে শুধু পেশাদার ক্যারিয়ারের একটি অধ্যায় নয়, বরং একটি জীবন, একটি অনুভূতি এবং একটি চিরন্তন বন্ধন।



