যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল শিক্ষা দপ্তর ভেঙে ফেলার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টা নতুন গতি পেয়েছে। বহু আইনি বাধা, কংগ্রেসের বিরোধিতা এবং এমনকি প্রশাসনের নিজস্ব নীতিগত জটিলতা এতদিন এই পরিকল্পনাকে ধীর করলেও সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই লক্ষ্য পূরণের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ১৮ নভেম্বর প্রশাসন জানায় যে শিক্ষা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অন্য চারটি ফেডারেল দপ্তরের অধীনে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মোট ছয়টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। যুক্ত থাকা দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রম, পররাষ্ট্র, অভ্যন্তরীণ এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রণালয়। এর ফলে শিক্ষা দপ্তরের দীর্ঘদিনের প্রভাব কার্যত সংকুচিত হতে চলেছে।
একই দিনে দুপুরের বৈঠকে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষা সচিব পদধারী কর্মকর্তা জানান যে এই পরিবর্তন ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে যাতে প্রশাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া যায়। কংগ্রেসে এখনো শিক্ষা দপ্তর পুরোপুরি বিলুপ্ত করার মতো সমর্থন নেই, তবে তিনি জানান যে পুনর্বিন্যাসের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিবরণে উদ্ধৃত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী তিনি বলেন যে ফলাফলই প্রধান বিষয় এবং এই প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিশ্রম প্রয়োজন হবে।
পরিবর্তনগুলো কবে কার্যকর হবে এবং শিক্ষার্থী বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে প্রভাবিত হবে তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আপাতত দেখা যাচ্ছে যে সংশ্লিষ্ট কর্মী কিংবা অর্থায়ন পুরোপুরি বহাল থাকছে। শুধুমাত্র দায়িত্ব অন্য দপ্তরে সরিয়ে নেওয়া হলে দৈনন্দিন কাজে খুব বড় পরিবর্তন নাও দেখা যেতে পারে। তাছাড়া তদারকির দায়িত্ব এখনো শিক্ষা দপ্তরের হাতেই থাকবে।
প্রশাসনের মতে এই পুনর্গঠন সময়ের সাথে সাথে ফেডারেল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের আশঙ্কা ভিন্ন। পূর্ববর্তী এক রিপাবলিকান প্রশাসনের অধীনে শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করা এক সাবেক কর্মকর্তা জানান যে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা স্কুলগুলোর জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর মন্তব্য অনুযায়ী একটি দপ্তর থেকে আরেকটিতে কর্মসূচি সরিয়ে নেওয়া মানেই জটিলতা কমে না এবং এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং পরিবারগুলোর জন্য কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে।
শিক্ষা দপ্তরের বাইরে যেসব কর্মসূচি যাচ্ছে তার তালিকা বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় বিশ বিলিয়ন ডলারের টাইটেল ওয়ান তহবিল যা নিম্ন আয়ের স্কুল জেলা সমূহের জন্য বরাদ্দ হয়। রয়েছে শিশুদের স্কুল-পরবর্তী ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গ্রামীণ স্কুলের অনুদান, শিশুদের পাঠ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ, উপজাতীয় এবং হিস্পানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সহায়তা, চার্টার স্কুলের অনুদান, নেটিভ আমেরিকান শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি, শিক্ষাজীবী অভিভাবকদের জন্য অনুদান, বিদেশি গবেষণার জন্য ফুলব্রাইট হেইস কর্মসূচি এবং বিদেশি মেডিকেল স্কুল স্বীকৃতি প্রক্রিয়া। এই তালিকা আরও দীর্ঘ।
বহু দশক ধরে শিক্ষা দপ্তরের পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকা এসব কর্মসূচির স্থানান্তর নিয়ে শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন উত্কণ্ঠা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে হঠাৎ পরিবর্তনে স্কুলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
স্কুল সুপারিনটেনডেন্টদের একটি জাতীয় সংগঠনের প্রধান জানান যে জেলা পর্যায়ের অনেক প্রতিষ্ঠান আগেই সীমিত প্রশাসনিক সক্ষমতায় পরিচালিত হয়। নতুন তদারকি কাঠামো বা রিপোর্টিং মানদণ্ডে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাড়তি সম্পদের প্রয়োজন হতে পারে যা বরং শিক্ষার্থীদের সেবা থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারে। তিনি প্রশাসনকে অনুরোধ করেন যাতে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় শিক্ষা নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করা হয়।
কলেজ পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের সংগঠনও একই রকম সতর্ক বার্তা দিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি জানান যে অন্য দপ্তরের কর্মীদের পক্ষে একদিনে শিক্ষা বিষয়ক বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয় এবং এতে কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।
এই স্থানান্তর কবে শুরু হবে তার সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে পূর্বে ক্যারিয়ার, টেকনিক্যাল এবং প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা দপ্তরকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের উদাহরণ থেকে ধারণা করা যায় যে বাস্তবায়নে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সেই ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর হয় মে মাসে এবং কর্মীদের নতুন দপ্তরে কার্যত যোগ দিতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নতুন পরিবর্তনেও এমন বিলম্ব দেখা দিতে পারে।



