যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনাও ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের সমাধানে কোনো বাস্তব অগ্রগতি আনতে পারেনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল যে বৈঠক করেছেন, তাকে ক্রেমলিন কর্মকর্তারা গঠনমূলক বলে আখ্যা দিলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ইউক্রেনের দখলকৃত ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
বিবিসির প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার মস্কোতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক রাত গড়িয়ে শেষ হয়। মধ্যরাতে ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা আলোচনার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানান। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক বিষয়ক দূতসহ পররাষ্ট্রনীতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা।
বৈঠক শেষে রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, ইউক্রেন পরিস্থিতিতে ভূখণ্ড সংক্রান্ত ছাড় দেওয়ার প্রশ্নে এখনো কোনো গ্রহণযোগ্য পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলোর কিছু অংশ নিয়ে আরও আলোচনা করা যেতে পারে, তবে সেগুলো এখনো সমঝোতার রাস্তা খুলে দেয়নি। তাঁর ভাষ্যমতে, আলোচনার পরিবেশ ছিল কার্যকর এবং গঠনমূলক, তবে উভয় পক্ষের সামনে এখনো দীর্ঘ কাজ অপেক্ষা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বৈঠক পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিবিসির তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচকদলের একজন ইতোমধ্যে মস্কো ত্যাগ করেছেন। তাঁদের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলাপ করা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এ যুদ্ধ থামানোর উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পূর্বে মন্তব্য করেছিলেন যে আলোচনায় এখনো পর্যন্ত কোনো খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না, বরং বিভিন্ন প্রস্তাবের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে এগুলোর কিছু অংশ চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে চুক্তির দিকে এগোতে হলে আগে ভূখণ্ড সংক্রান্ত বড় ধরনের মতপার্থক্য দূর করতে হবে।
এদিকে ট্রাম্প আগেও একাধিকবার বলেছেন যে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে চান। গত আগস্টে আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর শীর্ষ বৈঠকও সেই প্রচেষ্টার অংশ ছিল। তবে সে উদ্যোগে শান্তির কোনো বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি। চলমান আলোচনাও সেই স্থবিরতা কাটাতে পারেনি। এখনও দুই পক্ষের অবস্থান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভিন্নমুখী।
মস্কোর এই সাম্প্রতিক বৈঠক তাই সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সমঝোতা অনিবার্য হলেও মূল সংকট ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত, আর সেখানেই এখনো অচলাবস্থা।



