ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া এবং তাঁর সাম্প্রতিক ক্ষমা আবেদন নতুন করে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতিসহ তিন মামলার সম্পূর্ণ অব্যাহতি চেয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে যে আবেদন করেছেন, তার পরপরই তেল আবিবে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের সামনে নেমে এসে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরকারের কাছে স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার দাবি জানান।
দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ঘুষ গ্রহণ এবং আস্থাভঙ্গের অভিযোগে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। বিচারপ্রক্রিয়া বহু বছর ধরে চলছে এবং এটি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। গত রোববার ৭৬ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী একটি ভিডিও বার্তায় জানান যে, তিনি আদালত প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি চেয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছেন। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে ছয় বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার চলছে এবং এটি আরও বহু বছর ধরে চলতে পারে, যা দেশকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন যে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া দেশের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং সমাজে বিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলছে। যদিও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন, তবু কোনো ধরনের দোষ স্বীকার বা অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। এ বিষয়টি ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশকে ক্ষুব্ধ করেছে। আবেদন প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল আবিবের রাস্তায় নেমে আসে বিপুল সংখ্যক জনগণ। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বাসভবনের সামনে রাতভর চলে বিক্ষোভ।
বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধী আইনপ্রণেতারাও যোগ দেন। তাঁরা প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে বলেন, এই আবেদন পুরোপুরি বাতিল করা উচিত কারণ এটি বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাঁদের মতে, কোনো ব্যক্তি যদি দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করে থাকেন, তাহলে তাঁর প্রতি বিচার হওয়া আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিক্ষোভস্থলে একজন অংশগ্রহণকারী বন্দীদের মতো কমলা রঙের পোশাক পরে প্রধানমন্ত্রীর মতো সাজেন। তিনি একটি কলার স্তূপের ওপর বসে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা কলার স্তূপ ঘিরে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ডে লেখেন পারডন ব্যানানা রিপাবলিক। ব্যানানা রিপাবলিক বলতে এমন একটি দেশকে বোঝানো হয় যেখানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা প্রবল এবং শাসনব্যবস্থা থাকে দুর্বল। একই সঙ্গে বিদেশি একচেটিয়া ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাতে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সরকারবিরোধী এক সক্রিয় অধিকারকর্মী জানান যে, প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের দায় স্বীকার না করে বরং সম্পূর্ণ অব্যাহতি চেয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের রাজনৈতিক বিভেদ বাড়ানোর জন্য যে মূল্য দেশের জনগণ দিচ্ছে, তার কোনো প্রতিফলন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নেই। তিনি এটিকে বিচারপ্রক্রিয়া ভেঙে ফেলার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই আবেদন নজিরবিহীন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেবেন। এমন একটি আবেদন দেশজুড়ে যে আলোড়ন তুলেছে, তা প্রেসিডেন্টের বিবৃতিতেও প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা নেতা হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর তিন দফায় মোট ১৮ বছরেরও বেশি সময় দেশ পরিচালনা করেছেন। ডানপন্থী লিকুদ পার্টির এই নেতা ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও লড়বেন।



