নিউইয়র্কে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীকে কেন্দ্র করে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রার্থী তাঁর পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এলাকার উন্নয়নের বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা জানান। বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ অর্থাৎ ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ এলাকার জন্য বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ মনোনীত যে প্রার্থীকে সামনে এনেছে, তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত একজন আলেম এবং সমাজসেবক। প্রবাসী বাংলাদেশি আমেরিকানের ব্যানারে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভা ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ার কাবুল গ্রিল আফগান রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উলামা মাশায়েখ অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং সঞ্চালনা করেন এক সাংবাদিক। শুরুতে তেলাওয়াত করেন এক হাফেজ। মূল বক্তব্যে প্রার্থী বলেন, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথকে একটি আধুনিক ও মডেল অঞ্চলে রূপান্তরিত করতে তিনি বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, এই দুটি উপজেলা থেকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নির্মূল করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের সহযোগিতায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনে তিনি নিরন্তর কাজ করে যেতে চান।
প্রার্থী আরও বলেন, তিনি গত দশ বছর ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে নিয়মিতভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। করোনা মহামারি, বন্যা বা অন্যান্য দুর্যোগে তিনি নানাভাবে জনসাধারণকে সহযোগিতা করেছেন। স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা পূরণে অনেক ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, রাস্তাঘাটের জীর্ণ দশা থেকেই বোঝা যায় এলাকার মানুষ কতটা ভোগান্তিতে আছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়ন, সমাজসেবা ও ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করা হয়েছে। তাই নির্বাচিত হলে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা তাঁর অগ্রাধিকার হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি, বিভিন্ন ইসলামিক সেন্টার, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা। তাঁরা এলাকার উন্নয়ন, প্রবাসীদের ভূমিকা এবং আগামী নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধির গুরুত্ব নিয়ে মত প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, সিলেট-২ আসন ভৌগলিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিভিন্নভাবে পিছিয়ে পড়েছে। যদিও প্রবাসী জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে এলাকাটি আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তবুও সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও কার্যকর নেতৃত্ব ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সভাপতির বক্তব্যে একজন চিকিৎসক বলেন, সিলেট-২ আসন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্মস্থান হওয়ায় এ অঞ্চলের প্রতি জাতীয়ভাবে বিশেষ মনোযোগ থাকা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মনোনীত প্রার্থী এই আসনে আট সমমনা দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। তিনি প্রার্থীর প্রতি শুভকামনা জানিয়ে প্রবাসীদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসাথে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বড় দুই নেত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
শেষ পর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, এক নেত্রীর রোগ মুক্তি কামনা এবং প্রার্থীর মনোবাসনা পূরণে দোআ পরিচালনা করেন আসসাফা ইসলামিক সেন্টারের এক ইমাম। প্রবাসীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় রূপ নেয় এবং সিলেট-২ আসনের উন্নয়ন ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশা তৈরি করে।



