ভুটানের সরকারপ্রধান দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছালে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দিনের শুরুতেই আয়োজন ছিল বেশ আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারে পরিপূর্ণ, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ভুটান সরকারপ্রধানকে বহনকারী ড্রুক এয়ারের ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে। বিমান থেকে নেমে তিনি সরাসরি বিমানবন্দরের অভ্যর্থনা এলাকায় পৌঁছান, যেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তাঁকে ভিআইপি লাউঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দুই নেতার মধ্যে কিছুক্ষণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভুটান সরকারপ্রধান আগের দিনের ভূমিকম্পে প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
বৈঠক শেষে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বিমানবন্দরের অস্থায়ী অভিবাদন মঞ্চে। সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী ১৯ বার তোপধ্বনি এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সামরিক বাহিনীর বিশেষ কুচকাওয়াজ এবং সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় সফরের সূচনার এই আনুষ্ঠানিকতা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনেরই নিদর্শন।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শেষে ভুটান সরকারপ্রধান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে তিনি স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে প্রটোকল অনুযায়ী জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দর্শনার্থী বইতে স্বাক্ষর করারও কথা রয়েছে, যা তাঁর সফরের একটি আনুষ্ঠানিক অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন সাধারণত রাষ্ট্রীয় অতিথিদের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের একটি প্রতীকী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
দুপুরে তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পানি ও পরিবেশ বিষয়ক ইস্যু এবং ভুটান–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। এই বৈঠকগুলো দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিকেল ৩টায় তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভুটান সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠক। ঘনিষ্ঠ এই আলোচনা উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করতে সহায়ক হতে পারে। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী দিকগুলোতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে কিনা, তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ দেখা গেছে।
সফরের প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যায় তাঁর সম্মানে আয়োজিত থাকবে আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ। এতে বাংলাদেশের শীর্ষ পদাধিকারী, রাষ্ট্রীয় অতিথিবৃন্দ ও কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়েই এ ধরনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনগুলো সাজানো হয়।



