মহিলা টি২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত মঞ্চ উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের ২০২৬ মৌসুমের নিলামে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এই নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় আছেন পেসার আক্তার, অলরাউন্ডার আক্তার এবং লেগ স্পিনার খান। মেয়েদের আইপিএল নামে পরিচিত এই আসরে এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের এমন উপস্থিতি দেশের নারী ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডব্লিউপিএল কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী মোট ২৭৭ ক্রিকেটার নিলামে অংশ নিচ্ছেন এবং সেখান থেকে ৭৩ জন খেলোয়াড় দল পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই ৭৩ জনের মধ্যে বিদেশি খেলোয়াড়ের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২৩টি জায়গা। ফলে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ এবং উদীয়মান ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে বাংলাদেশের তিন প্রতিনিধিকেও।
ডব্লিউপিএলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায় বাংলাদেশের পেসার আক্তার, অলরাউন্ডার আক্তার এবং লেগ স্পিনার খানের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ রুপি করে। নিলামের জন্য খেলোয়াড়দের যে তিনটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে, সেই বিভাজনে ৩০ লাখ রুপির ঘরটি বেশ বড়। এই ঘরেই আছেন মোট ৮৮ জন ক্রিকেটার। এর বাইরে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপির ভিত্তিমূল্যে আছেন ১৯ জন খেলোয়াড় এবং ৪০ লাখ রুপির ঘরে আছেন আরও ১১ জন।
ডব্লিউপিএল পাঁচ দলের প্রতিযোগিতা, এবং আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে টুর্নামেন্টের মূল পর্ব। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করা এই লিগ এখনো পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটারকে সুযোগ দেয়নি। ফলে ২০২৬ আসরে বাংলাদেশের তিন খেলোয়াড়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষত, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পাওয়া মানে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
এবারের নিলামকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে চলছে ব্যাপক আলোচনা। মোট ২৭৭ জন ক্রিকেটারের বৃহৎ তালিকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোচ্ছে প্রতিটি দেশই। তবে বিদেশি খেলোয়াড়ের জন্য সীমিত সুযোগ থাকায় প্রতিযোগিতা স্বভাবতই কঠিন। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের তিন খেলোয়াড়ের নাম তালিকায় উঠে আসা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় আনন্দের বিষয়।
ডব্লিউপিএল যেহেতু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক নারী টি২০ লিগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তাই নিলামে নাম উঠা মানেই নিজেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর আগে বাংলাদেশের কোনো নারী ক্রিকেটার এই লিগে খেলতে না পারলেও এবারের নিলাম সেই অপেক্ষা ঘোচানোর সম্ভাবনা জাগিয়েছে। এখন নজর থাকবে ২৭ নভেম্বরের নিলামে, যেখানে দেখা যাবে আক্তার, আক্তার বা খান কি কোনো দলের আস্থা অর্জন করতে পারেন কিনা।
বাংলাদেশি ক্রিকেটের বিস্তৃত কাঠামোতে নারীদের অংশগ্রহণ যেমন ক্রমেই বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক লিগগুলোতে তাদের উপস্থিতি দেশের নারী ক্রিকেট অবকাঠামোর শক্তিমত্তা ও সম্ভাবনাকেও নতুনভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। ডব্লিউপিএল নিলামে তিনজনের অন্তর্ভুক্তি সেই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



