যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটব্যবস্থার নিয়ম ও কাঠামো আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সোমবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেন, রিপাবলিকানদের উচিত ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। তাঁর মতে, অন্তত ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব জাতীয় পর্যায়ে নেওয়া প্রয়োজন। একটি পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় অনিয়ম হচ্ছে এবং এতে প্রকৃত ফলাফল প্রতিফলিত হচ্ছে না।
প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন এর কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা জর্জিয়ার একটি নির্বাচনী দপ্তরে তল্লাশি চালায়। সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরেই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ওই নির্বাচনে নিজের পরাজয়কে ঘিরে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। বিচার বিভাগের উদ্যোগে নির্বাচনী নথি জব্দ এবং সম্ভাব্য ভোট জালিয়াতির প্রমাণ খোঁজার অংশ হিসেবেই ওই অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে।
একই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেন, কিছু অঙ্গরাজ্য এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত যে তারা ভোট গণনার সময় প্রকৃত ফল বদলে দিচ্ছে। তাঁর দাবি, এমন অঙ্গরাজ্য রয়েছে যেখানে তিনি জয়ী হলেও সরকারি ফলাফলে তা দেখানো হয়নি। বিশেষ করে জর্জিয়াকে ঘিরে আদালতের আদেশে ব্যালট পরীক্ষা করা হলে সেখানে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই তল্লাশি অভিযান নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয় যখন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জানান, প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশেই তিনি আটলান্টায় যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযানে যুক্ত তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ফোনে কথা বলেন এবং স্বল্প সময়ের একটি উৎসাহমূলক বক্তব্য দেন। এতে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় তাঁর সক্রিয় আগ্রহ ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থাকে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের হাতে। ফেডারেল সরকারের ভূমিকা সীমিত হলেও বর্তমান প্রশাসন এই কাঠামো বদলাতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশে ভোটার নিবন্ধনের সময় মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করেন এবং নির্বাচনের দিন শেষে পৌঁছানো ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেন। যদিও ফেডারেল আদালতে এই আদেশ আংশিকভাবে স্থগিত হয়েছে, তবে আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ আগেই নিষিদ্ধ।
একাধিকবার প্রেসিডেন্ট দেশের ভোটব্যবস্থায় পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর মতে, ডাকযোগে ভোট দেওয়া এবং ভোটিং মেশিন ব্যবহারের মতো পদ্ধতি জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ায়, যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত আগস্টে তিনি ডাকযোগে ভোট বাতিলের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং নির্বাহী আদেশে তা নিষিদ্ধ করার কথাও বলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সে আদেশে তিনি স্বাক্ষর করেননি।
এ ছাড়া প্রশাসন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি বিরল মধ্য-দশক পুনর্বিন্যাস উদ্যোগও নেয়, যার লক্ষ্য প্রতিনিধি পরিষদের আরও বেশি আসন নিজেদের দখলে আনা।
বিচার বিভাগও ভোট নিয়ে বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছে। অবৈধ অভিবাসীরা নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে এমন অভিযোগ তুলে তারা প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং পূর্ণ ভোটার তালিকা চেয়েছে। এসব তালিকায় সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর ও বাসার ঠিকানার মতো ব্যক্তিগত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটিক দলের নির্বাচন কর্মকর্তারা সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপের বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এক অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, ভোটকেন্দ্রে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থেকে ভোটারদের সুরক্ষা দেওয়া এবং বিপুল সংখ্যক ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার প্রশাসনিক উদ্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিষয়টি এখন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠেছে। এটি দুঃখজনক হলেও সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করা দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে।
ডেমোক্র্যাটিক দলের একাধিক অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, আগাম প্রস্তুতির বিস্তারিত প্রকাশে তারা সতর্ক। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে বা কোনো অসৎ পক্ষের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে



