Saturday, January 3, 2026
spot_img
Homeআপনার স্বাস্থ্যট্রাউট ডিএনএ ইনজেকশন কি বদলে দিচ্ছে স্কিন কেয়ারের ধারা

ট্রাউট ডিএনএ ইনজেকশন কি বদলে দিচ্ছে স্কিন কেয়ারের ধারা

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এমন প্রশ্ন করতে হবে কখনও ভাবিনি। তবু দক্ষিণ ম্যানচেস্টারের একটি ছোট অ্যাস্থেটিক ক্লিনিকে বসে আজ এক রোগীকে মাছের শুক্রাণু থেকে তৈরি ইনজেকশন নেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি। ক্লিনিকের কালো প্যাডেড চেয়ারে শুয়ে থাকা যুবতীর গালে সূক্ষ্ম ক্যানুলা ঢুকতেই তিনি ব্যথায় কেঁপে ওঠেন। তাঁর বয়স উনত্রিশ এবং তিনি সরাসরি ট্রাউটের শুক্রাণু ইনজেকশন নিচ্ছেন না। তাঁর মুখের নিম্নাংশে দেওয়া হচ্ছে পলিনিউক্লিওটাইড নামে পরিচিত ক্ষুদ্র ডিএনএ টুকরা যা ট্রাউট বা স্যামনের শুক্রাণু থেকে সংগ্রহ করা হয়।

মানব ও মাছের ডিএনএ কাঠামোর মিল থাকার কারণে আশা করা হচ্ছে এই ডিএনএ কণা তাঁর ত্বকে কোলাজেন এবং ইলাস্টিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেবে। দুটি প্রোটিনই ত্বকের দৃঢ়তা বজায় রাখতে অপরিহার্য। রোগীর লক্ষ্য ত্বক সতেজ রাখা, ব্রণজনিত দাগ হ্রাস করা এবং বহু বছরের লালচে ভাব কমানো। তাঁর নিজের ভাষায় তিনি চান মুখের সমস্যাগুলোকে নির্দিষ্টভাবে টার্গেট করতে।

সাম্প্রতিক সময়ে পলিনিউক্লিওটাইডকে স্কিনকেয়ারের নতুন আশ্চর্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিনোদন জগতের কয়েকজন তারকার তথাকথিত স্যামন স্পার্ম ফেশিয়াল নিয়ে খোলামেলা মন্তব্যের পরই এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন যে প্রচলিত ফিলার ব্যবহারের পর্ব নাকি শেষ এবং এখন তাঁরা গভীর ভিটামিনের মতো এই ইনজেকশনকে বেছে নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনয়শিল্পীরাও সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের ত্বকের যত্নে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।

অ্যাস্থেটিক্স প্রতিষ্ঠান ডার্মাফোকাসের এক কর্মকর্তা বলেন যে এই প্রযুক্তি ত্বকের পুনর্জন্মে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। তাঁর মতে এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা মূলত শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতাকেই আরও জোরদার করে। সীমিত হলেও কিছু গবেষণা এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বলছে পলিনিউক্লিওটাইড ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা এবং দাগ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এর খরচ কম নয়। একটি সেশনের জন্য ২০০ থেকে ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত গুনতে হয় এবং কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি সেশন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারপরে ছয় থেকে নয় মাস পর পুনরায় টপ আপ নিতে হয়।

ম্যানচেস্টারের ক্লিনিকে চিকিৎসা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে ক্লিনিক মালিক এক অ্যাস্থেটিক নার্স প্র্যাকটিশনার তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে আর মাত্র একটি অংশ বাকি। তাঁর মতে গত আঠারো মাসে এই প্রক্রিয়ার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অর্ধেক রোগী উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখলেও বাকিদের পরিবর্তন তুলনামূলক কম। তবু বেশিরভাগের ত্বক টাইট এবং সতেজ অনুভূত হয়।

এই রোগী ইতোমধ্যে চোখের নিচে তিন ধাপের কোর্স সম্পন্ন করেছেন এবং ফলাফলে সন্তুষ্ট। যদিও বহু ক্ষুদ্র ইনজেকশন নেওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল বেদনাদায়ক, তবু তাঁর ডার্ক সার্কেল কিছুটা কমেছে। তবুও বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন যে প্রচার প্রায়ই গবেষণার অগ্রগামী হয়ে উঠছে। অস্ট্রেলিয়ার এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জানান যে ডিএনএ দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও স্যামনের ডিএনএ ছোট টুকরা করে ইনজেকশন দিলে তা মানুষের নিজের নিউক্লিওটাইডের মতো কাজ করবে কি না সে বিষয়ে জোরালো তথ্য এখনও নেই। তাঁর মতে বড় পরিসরের আরও কয়েক বছরের গবেষণা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

নিউ ইয়র্কের এক নারী নিজের বিয়ের আগে গ্লো আপ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই চিকিৎসা নিলেও শেষ পর্যন্ত ত্বকে সংক্রমণ, প্রদাহ এবং পূর্বের চেয়ে বেশি গাঢ় দাগ নিয়ে বিপাকে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করেন ভুল গভীরতায় ইনজেকশন দেওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সাধারণত সাময়িক লালচে ভাব, ফোলা বা কালশিটে দাগ দেখা দিতে পারে। তবে সঠিকভাবে প্রয়োগ না হলে ত্বকের রঞ্জন পরিবর্তন, সংক্রমণ এবং অ্যালার্জির মতো দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিও থাকতে পারে।

যুক্তরাজ্যে এই চিকিৎসা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও এটি কেবল মেডিকেল ডিভাইস হিসেবে নিবন্ধিত এবং ওষুধের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এটিকে এখনো অনুমোদন দেয়নি। ফলে নিরাপদ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের মতে চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ এবং ব্যবহৃত ব্র্যান্ডের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটিশ কোলেজ অব অ্যাস্থেটিক মেডিসিনের একজন পদধারী চিকিৎসক জানান যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে রোগীদের প্রাকৃতিক লুক বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে পলিনিউক্লিওটাইড ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে এটি মোটেই সর্বজনীন সমাধান নয়। তাঁর মতে আরও প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা প্রচুর তথ্যসহ বিদ্যমান এবং প্রত্যেক মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হওয়ায় এক পদ্ধতি দিয়ে সবাইকে সমান ফল দেওয়া সম্ভব নয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments