Saturday, January 3, 2026
spot_img
Homeএডুকেশনটেক্সাস স্কুলে ধর্মীয় পোস্টার বিতর্ক তীব্র

টেক্সাস স্কুলে ধর্মীয় পোস্টার বিতর্ক তীব্র

টেক্সাসে সরকারি স্কুলগুলোতে বাইবেলের টেন কমান্ডমেন্টস প্রদর্শনের উদ্যোগ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় পোস্টার স্থাপনের প্রচেষ্টা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের এই বাধ্যতামূলক নির্দেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু স্কুল জেলা জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে এবং আইনি লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ফেডারেল আদালত প্রায় এক হাজার দুইশো স্কুল জেলার মধ্যে অন্তত দুই ডজনকে টেন কমান্ডমেন্টসের পোস্টার টাঙাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মঙ্গলবার দেওয়া রায়ের মাধ্যমে আদালত জানায় যে এই রাজ্য আইনের বিধান যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করছে, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষিত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা নিষিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে চার্চ ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের নীতি এখানেই জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়।

আরকানসাস ও লুইজিয়ানায় একই ধরনের আইনের বিপক্ষেও আদালত রায় দিয়েছে, যা বিষয়টিকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

যদিও আইনি প্রক্রিয়া চলছে, টেক্সাসের বহু স্কুলে ইতিমধ্যেই নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি অনেকদূর এগিয়েছে। বিভিন্ন স্কুল বোর্ড বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন সে বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা পেয়েছেন এবং অনেক স্কুলে দানকৃত পোস্টারের বাক্স জমতে শুরু করেছে।

ডালাসের নিকটবর্তী উপশহর ফ্রিসকোতে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রায় এক হাজার আটশো ডলার ব্যয়ে প্রায় পাঁচ হাজার পোস্টার মুদ্রণ করেছে। আইন অনুসারে কেবল দান করা পোস্টার প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা আগেভাগেই উদ্যোগ নেয়। বিপরীতে কিছু স্কুল আবার পোস্টার পাওয়াই নিশ্চিত করতে পারেনি।

হোয়াইটসবোরোর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের শিক্ষক জানান, তাঁর শ্রেণিকক্ষে টেন কমান্ডমেন্টসের একটি পোস্টার ঝুলছে। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনো প্রচারকাজে যুক্ত নন, বরং তিনি মার্কিন সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়ায় খ্রিস্টধর্মের প্রভাবের ঐতিহাসিক দিকটি তুলে ধরতেই এই প্রদর্শনী ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে অস্টিনের কাছাকাছি একটি স্কুল জেলার নাট্যকলার শিক্ষিকা বাধ্যতামূলক প্রদর্শনের নিয়ম উপেক্ষা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের ওপর ধর্মীয় আদর্শ আরোপ করার প্রয়াসের অংশ হতে তিনি রাজি ছিলেন না।

আইন অনুযায়ী দানকৃত পোস্টার প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের এমন স্থানে টাঙাতে হবে যা সবার চোখে সহজে পড়ে এবং লেখা এমন বড় অক্ষরে হতে হবে যাতে গড় দৃষ্টিশক্তির ব্যক্তি শ্রেণিকক্ষের যেকোনো স্থান থেকে তা দেখতে পারেন।

স্টেট ক্যাপিটাল অস্টিনের দক্ষিণে হেস স্কুল জেলা টেন কমান্ডমেন্টসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীসহ বিল অব রাইটসও প্রদর্শন করেছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট বুঝতে পারে।

গ্যালভেস্টনের স্কুল বোর্ড রায় না আসা পর্যন্ত পোস্টার না টাঙানোর পক্ষে ভোট দেয়, কিন্তু এরপরই তারা রাজ্যের মামলার মুখোমুখি হয়। সপ্তাহের শুরুতে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল আরও দুটি জেলাকে আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করার ঘোষণা দেন। যদিও অভিযুক্ত জেলার একটি দাবি করেছে যে তারা দানকৃত পোস্টার প্রদর্শন করছে।

রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইনসভায় আইনটি সহজেই পাস হয় এবং জাতীয় পর্যায়েও দলীয় রাজনীতিতে বেশ সমর্থন পায়। ডালাসের আরেক উপশহরে একজন কাউন্টি কমিশনার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় স্কুল জেলাকে পোস্টার দান করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। তাঁর মতে, এই নীতিগুলো খ্রিস্টীয় বিশ্বাস, আইনব্যবস্থা এবং সমাজের আচরণবিধির ভিত্তি রচনা করে।

সান অ্যান্টোনিওর কাছাকাছি একজন অভিভাবক জানান, তিনি তাঁর সন্তানের কিন্ডারগার্টেনে পোস্টার দেখতে চান, কারণ এটি নৈতিক ভিত্তি ও দায়িত্বশীলতা গড়ে তুলতে সহায়ক।

এদিকে শিক্ষক সংগঠনের একজন আইনগত উপদেষ্টা জানান, শিক্ষকরা জানতে চাইছেন যদি তারা পোস্টার না টাঙান তবে কী শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন এবং অন্যান্য ধর্মের নীতিবাক্য প্রদর্শন করা যাবে কি না। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে পরিবারে পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

অস্টিনের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, তাঁদের স্কুলে আদালত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী নন এমন শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে এমন ধর্মীয় বার্তা দেখে অস্বস্তি বোধ করতে পারেন বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments