Sunday, January 4, 2026
spot_img
Homeবাংলাদেশজোট নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বিতর্কে হাইকোর্ট রুল

জোট নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বিতর্কে হাইকোর্ট রুল

নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধ হলেও নিজেদের দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার বিধানের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিওতে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া সংশোধিত বিধানকে কেন্দ্র করে দাখিল করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ সোমবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল প্রদান করেন।

রুলে বলা হয়েছে, আরপিওতে যুক্ত হওয়া সংশোধিত ৯ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের ২৮, ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। আইনসচিব, নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ বিবাদীদের দশ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছর ৩ নভেম্বর আরপিও সংশোধন করে নতুন বিধান যুক্ত করে। সংশোধনের আগে কোনো দল জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে যেকোনো দলের প্রতীক ব্যবহার করার সুযোগ থাকত। নতুন বিধান অনুযায়ী, জোট করলেও প্রতিটি দলকে নিজেদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রতীকেই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

এই সংশোধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মহাসচিব গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট দাখিল করেন। আজ রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রিট আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, যার সঙ্গে ছিলেন আরও দুই আইনজীবী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন কমিশনের আইনজীবী এবং রাষ্ট্রপক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

জোট করলেও দলীয় প্রতীকের বাধ্যবাধকতা নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। দলটি নির্বাচন কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানায় যে জোটগত নির্বাচনে প্রতিটি দলকে নিজেদের প্রতীক ব্যবহার করতে বাধ্য করলে ছোট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জয়ের পথ কঠিন হয়ে যাবে। বিএনপির মতে, এ ধরনের বিধান কার্যকর হলে জোটের ভেতরে সমন্বয়ের সমস্যা বাড়বে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুবিধা পেয়ে যেতে পারে।

তবে এই সংশোধনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি। তাদের মতে, প্রতিটি দল নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করলে রাজনৈতিক পরিচয় আরও স্পষ্ট হবে এবং জোট রাজনীতির ভেতর স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। শেষ পর্যন্ত বিতর্ক থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার সংশোধিত বিধান বজায় রেখে ৩ নভেম্বর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন জারি করে।

নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জোট রাজনীতির কাঠামো, ছোট দলের নির্বাচনী কৌশল এবং ভোটারদের মাঝে প্রতীকের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। হাইকোর্টের এই রুলের মাধ্যমে বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধানের দিকে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যবস্থা ও জোটগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments