ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রস্তাবিত ২৮ দফার শান্তিচুক্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যে আলোচনা চলছে, সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক সামরিক জোট ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের মতে, কয়েক দিনের মধ্যেই সব দফা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার রাতে জেনেভায় বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক সাংবাদিকদের জানান যে ইউক্রেন ও ইউরোপের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা গঠনমূলক অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছেন। যুক্তরাষ্ট্র মিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন যে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এখনো বেশ কিছু কাজ বাকি। তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২৮ দফার বহু অমীমাংসিত বিষয়কে কাছাকাছি নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তিনি অর্জিত অগ্রগতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী অভিযোগ তুলেছিলেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় তাঁদের প্রতি পর্যাপ্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে না। এই মন্তব্য ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। আলোচনায় ইউরোপের কর্মকর্তারাও প্রস্তাবিত বেশ কিছু দফা নিয়ে আপত্তি জানান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী সংকোচন এবং ভূমি ছাড়ের বিষয়গুলো নিয়ে তাঁরা সংশোধনের দাবি তোলেন।
ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের বিকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার তুলনায় ইউক্রেনকে আরও বড় সামরিক বাহিনী রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভূমি-সংক্রান্ত আলোচনা পূর্বনির্ধারিত অবস্থান থেকে নয় বরং বর্তমান রণক্ষেত্রের সামনের সারির উপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া প্রয়োজন।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ঘোষণা করেছিলেন যে ইউক্রেনকে আসছে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাঁর পরিকল্পনা মেনে নিতে হবে, অন্যথায় তিনি ভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করবেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলের সমগ্র দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দিতে হবে। যদিও এই অঞ্চলের একটি অংশ এখনো ইউক্রেনের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। দনবাস ছাড়ার বিনিময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে নিজেদের দখলে নেওয়া কিছু এলাকা ফিরিয়ে দেবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে ছয় লাখ সদস্যের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী সীমিত রাখতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করতে হবে।
সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরের দিন শনিবার তিনি নতুন করে জানান যে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত নয় এবং এতে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। জেনেভায় আলোচনার সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জানান যে এখনো বেশ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য আছে, তবে তাঁরা আশা করছেন বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রয়োজনে আলোচনার সময় আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিবিসির বরাতে জানা যায় যে সোমবারও জেনেভায় আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। দুইটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ইউক্রেনের শীর্ষ নির্বাহীর সম্ভাব্য ওয়াশিংটন সফর নিয়েও আলোচনা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে যে তিনি চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাব ইউক্রেন সংঘাত সমাধানের ভিত্তি হতে পারে। যদিও তিনি স্পষ্ট করে সতর্ক করেছেন যে কিয়েভ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।



