Sunday, January 4, 2026
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকজার্মানিতে সেনা গুলিচুরি নিয়ে নতুন উদ্বেগ

জার্মানিতে সেনা গুলিচুরি নিয়ে নতুন উদ্বেগ

জার্মানির স্যাক্সনি আনহাল্ট রাজ্যের বুর্গ শহরে সেনাবাহিনীর ব্যারাকগামী একটি ডেলিভারি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ চুরির ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, ট্রাকের চালক নির্ধারিত পথের বাইরে একটি অননুমোদিত স্থানে থামায় সুযোগ নেয় অজ্ঞাত চোরচক্র।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জার্মানির আঞ্চলিক মাধ্যম এমডিআর এবং সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ডেয়ার স্পিগেলকে জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ নভেম্বর। ঘটনার সময় গোলাবারুদ বহনকারী ট্রাকটি ছিল একটি বেসরকারি মালিকানাধীন যান। রাতে যাত্রাবিরতি হিসেবে ট্রাকচালক বুর্গের একটি হোটেলের পার্কিং লটে ট্রাক থামান। পরের দিন ট্রাক ব্যারাকে পৌঁছানোর পর দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা সদস্যরা হিসাব মিলিয়ে দেখতে গিয়ে বুঝতে পারেন, বিপুল সংখ্যক গুলি অদৃশ্য।

তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পিস্তলের প্রায় ১০ হাজার তাজা গুলি এবং প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত অ্যাসল্ট রাইফেলের ৯ হাজার ৯০০ গুলি ট্রাকে ছিল না। মোট প্রায় ২০ হাজার গুলি চুরি হওয়া জার্মান সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং যে কোনোমতেই এসব গুলি ভুল মানুষের হাতে যাওয়া উচিত নয়। মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চালকের অবিবেচকভাবে ট্রাক থামানোর সিদ্ধান্তই বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং এই অবহেলাই চুরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনো কোনো সন্দেহভাজন বা সম্ভাব্য চোরচক্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ধরনের ঘটনা এ অঞ্চলে নতুন নয়। কয়েক বছর ধরে স্যাক্সনি আনহাল্ট রাজ্যে গোলাবারুদ নিখোঁজ হওয়ার সমস্যা বারবার আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বার্নবুর্গ এবং আইসলেবেন শহরেও পুলিশের গোলাবারুদ খোয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব চুরির কারণে জার্মান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর তদন্ত, শক্তিশালী নজরদারি এবং সরবরাহ প্রক্রিয়ায় উচ্চতর নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা এবার আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments