চ্যাম্পিয়নস লিগে বয়সী ফুটবলারদের গোলের তালিকায় নতুন সংযোজন যোগ হয়েছে গত রাতের এক ম্যাচে। সাইপ্রাসের ক্লাব পাফোস মোনাকোর বিপক্ষে ২–২ গোলের ড্রয়ে মাঠ ছাড়লেও ম্যাচটি বিশেষ হয়ে ওঠে পাফোসের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারের কারণে। ম্যাচের মাত্র ১৮ মিনিটে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার, যার বয়স এখন ৩৮ বছর। গোলটি তাকে সরাসরি নিয়ে গেছে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বয়সে গোলদাতা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।
চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগজয়ী এই ফুটবলার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু অর্জন গড়েছেন, তবে বয়সের কারণে এবার তার নাম উঠল আরও একটি বিশেষ পরিসংখ্যানে। এতদিন ধরে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ইতালির কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড যিনি রোমার হয়ে ২০১৪ সালে রাশিয়ান ক্লাব সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে গোল করেছিলেন। সেই সময় তার বয়স ছিল ৩৮ বছর ৫৯ দিন।
গত রাতের গোল করে পাফোস ডিফেন্ডারের বয়স দাঁড়ায় ৩৮ বছর ২১৮ দিন, যা তাকে ইতালির সেই কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে নতুন অবস্থান এনে দেয়। এখন তার সামনের একমাত্র অবস্থানটি দখলে রেখেছেন পর্তুগালের প্রখ্যাত ডিফেন্ডার ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা। তিনি শাখতার দোনেস্কের বিপক্ষে ২০২৩ সালে গোল করেছিলেন ৪০ বছর ২৯০ দিন বয়সে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে সর্বোচ্চ বয়সে গোলদাতার রেকর্ডটি এখনো তার দখলেই আছে।
এই গোলটি ছিল পাফোস ডিফেন্ডারের প্রায় আট বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে করা প্রথম গোল। সর্বশেষ তিনি গোল করেছিলেন ২০১৭ সালে চেলসির হয়ে রোমার বিপক্ষে। এত দীর্ঘ সময় পর আবার ইউরোপসেরা ক্লাব টুর্নামেন্টে গোল পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি।
পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে আশির দশকে জন্মানো খেলোয়াড়দের মধ্যে এটিই প্রথম গোল। একই সঙ্গে একটি বিশেষ মিলও রয়ে গেছে এই গোলের সঙ্গে। গোলটি এসেছে আশির দশকে জন্মানো এক গোলরক্ষকের বিপক্ষে, যা এই পরিসংখ্যানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এই ম্যাচটি শুধু ফলাফলের কারণে নয়, বরং ফুটবল ক্যারিয়ারের দীর্ঘায়ু ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়নে এক নতুন বার্তা দিয়ে গেল। বয়স যে শুধু সংখ্যা, তা আবারও প্রমাণ করলেন পাফোসের এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার।





Add comment