গিনি বিসাউয়ে সামরিক অন্তর্বর্তী শাসনের সূচনা

গিনি বিসাউয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী মেজর জেনারেল ইনতাকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। এর মাত্র এক দিন আগে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই সেনারা বেসামরিক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা নেয়। সামরিক বাহিনীর এই হস্তক্ষেপ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টকে গতকাল একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে সেনেগালে নেওয়া হয়েছে। সেনেগাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে তিনি দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে জানানো হয়। পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলে গত পাঁচ বছরে এটি নবম সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা। গিনি বিসাউয়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে সামরিক প্রভাব নতুন নয় এবং কোকেন পাচারের কেন্দ্র হিসেবে দেশটির পরিচিতিও বহুল আলোচিত।

বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একদল সেনা কর্মকর্তা হাজির হয়ে ঘোষণা দেন যে তাঁরা প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করেছেন। নিজেদের ‘হাই মিলিটারি কমান্ড ফর দ্য রিস্টোরেশন অব অর্ডার’ পরিচয়ে তাঁরা জানান, কিছু রাজনীতিক এবং মাদক চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত অনুষ্ঠানে সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় প্রথমবারের মতো নেতা হিসেবে উপস্থিত হন মেজর জেনারেল ইনতা। তিনি বলেন, মাদক পাচারকারীরা দেশের গণতন্ত্রকে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তাই সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা এক বছর ধরে পরিচালিত হবে। পরবর্তী সময়ে শপথ অনুষ্ঠানে তিনি মেজর জেনারেল জ্যাসিকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।

রাজধানী বিসাউয়ে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আশপাশে বুধবার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপের ঠিক আগেই এমন ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৪৭ বছর বয়সী এক নতুন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ঘটনার সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ফরাসি গণমাধ্যমকে ফোন করে জানান যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছেন।

আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এই সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে আটক সব কর্মকর্তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। একইভাবে পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইসিওডব্লিউএইএসের রাষ্ট্রপ্রধানরাও অভ্যুত্থানের নিন্দা জানান। পরে পরিস্থিতি নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পোস্টে দেখা যায়, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, লাইবেরিয়া এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা ওই বৈঠকে অংশ নেন।

গিনি বিসাউয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক মহল সামরিক হস্তক্ষেপের দ্রুত সমাধান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো স্পষ্ট নয়।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed