কাতারে আয়োজিত অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ল পর্তুগাল। তিন বছর আগে একই দেশে হতাশার স্মৃতি নিয়ে ফিরতে হয়েছিল পর্তুগালের সিনিয়র দলকে। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিল দেশের কনিষ্ঠ ফুটবলাররা। দোহায় খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অস্ট্রিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে তারা।
ফাইনালের একমাত্র গোলটি আসে ম্যাচের ৩২ মিনিটে। পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার সেন্টার ফরোয়ার্ড কাবরাল দারুণ নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে নেন। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল অস্ট্রিয়াও এবার প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের শক্তির সামনে তাদের লড়াই ব্যর্থ হয়।
এই শিরোপাজয় উদযাপন করতে ভুল করেননি আল নাসরের পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ইনস্টাগ্রামে পর্তুগাল অনূর্ধ্ব ১৭ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লেখেন যে খেলোয়াড়রা সত্যিকারের জায়ান্টস এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের উচ্ছ্বাস প্রাপ্য।
টুর্নামেন্টজুড়ে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড কাবরালের পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। সাত গোল করে তিনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যান শিরোপার আরও কাছে। তবে গোল্ডেন বুট জিতেছেন অস্ট্রিয়ার ফরোয়ার্ড মোজের, যার গোলসংখ্যা পুরো আসরে ছিল আট। এবারের প্রতিযোগিতা আকারে ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড়। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেয় এবং ১০০ ম্যাচে হয় ৩০০ এর বেশি গোল।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায়ও দারুণ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে পর্তুগাল। গত জুনে তারা জিতেছিল অনূর্ধ্ব ১৭ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বমঞ্চেও সেই সাফল্য ধরে রাখল একই দৃঢ়তায়। এবার সেমিফাইনালে ওঠে ব্রাজিল, পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া এবং ইতালি। ব্রাজিল নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগালের কাছে। অপর সেমিফাইনালে অস্ট্রিয়াকে আটকাতে ব্যর্থ হয় ইতালি এবং ২ ০ গোলে পরাজিত হয়।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪ ২ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে তৃতীয় হয় ইতালি। সব মিলিয়ে এবারের প্রতিযোগিতায় শীর্ষ তিনটি স্থানই দখল করেছে ইউরোপীয় দলগুলো পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া এবং ইতালি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা শেষ ৩২ দলের লড়াইয়ে টাইব্রেকারে মেক্সিকোর কাছে হেরে ছিটকে যায়। পর্তুগাল শেষ ষোলোয় সেই মেক্সিকোকেই হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
ফিফার বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন বিভাগের প্রধান, আর্সেনালের সাবেক কোচ, আয়োজক দেশ কাতারকে ফুটবলের স্বর্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি মনে করেন এই টুর্নামেন্ট ভবিষ্যতের বিশ্বফুটবলের ধরণ বদলে দেবে। তার মতে কাতার উন্নত সুবিধা ও আয়োজন দক্ষতার মাধ্যমে ফুটবলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পর্তুগালের কনিষ্ঠদের এই সাফল্য শুধু দেশের ফুটবল অগ্রগতির নতুন দিকই দেখায়নি বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপীয় আধিপত্যের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।



