নিউইয়র্কে ২০২৫ সালের এশিয়ান হেরিটেজ বিজনেস লিডার অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হয়েছেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও পদধারী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। গত ১১ নভেম্বর জ্যাকসন হাইটসের গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের অফিসে এক অনাড়ম্বর আয়োজনে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অ্যাওয়ার্ডটি প্রদান করেন ডিসি ৩৭ এশিয়ান হেরিটেজ কমিটির চেয়ারম্যান এবং অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবারের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট পদধারী এক বিশিষ্ট সংগঠক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে থাকা প্রতিনিধি, অ্যাসালের ন্যাশনাল সেক্রেটারী পদধারী কর্মকর্তা এবং সংগঠনটির করেসপন্ডিং সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আরেকজন প্রতিনিধি। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছার আবহ সৃষ্টি করে এবং সম্মাননার মুহূর্তটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসী এবং প্রধানধারার জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নির্ভর সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিচিতি অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানের নানা উদ্যোগে নেতৃত্বদানকারী এই প্রেসিডেন্ট তাঁর অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা এবং ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার জন্য কমিউনিটিতে সুনাম কুড়িয়েছেন। এই সম্মাননা তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অভিবাসী সমাজের প্রতি তাঁর অবদানেরও প্রতিফলন বলে সংগঠনের উপস্থিত প্রতিনিধিরা মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির ৬২টি লোকাল ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ডিস্ট্রিক্ট ডিসি ৩৭ শহরের অন্যতম বৃহত্তম ইউনিয়ন সংগঠন। এখানে কর্মরত সাধারণ সদস্যের সংখ্যা এক লাখ পঞ্চাশ হাজার এবং অবসরপ্রাপ্ত সদস্য রয়েছেন ছিয়াশি হাজার। দীর্ঘ সময় ধরে এই ইউনিয়ন বিভিন্ন পেশাজীবীর অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে।
প্রতি বছরই এশিয়ান হেরিটেজ মাস উপলক্ষে সংগঠনটি ব্যবসা ও কমিউনিটিতে ভূমিকা রাখা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করে। সদস্যদের মতামত সংগ্রহ এবং কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার ভিত্তিতে এবছর মোট তিনজনকে এশিয়ান হেরিটেজ বিজনেস লিডার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যেই ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের এই বাংলাদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয় বরং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও একটি গর্বের বিষয়। নিউইয়র্কে সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারে তাঁর নেতৃত্ব ভবিষ্যতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, এই ধরণের স্বীকৃতি অভিবাসী সমাজের তরুণ প্রজন্মকেও উৎসাহিত করবে এবং কমিউনিটির উন্নয়নমূলক কাজকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের পুরোটা সময় জুড়ে ছিল এক ধরনের উদ্দীপনা এবং স্বস্তির আবহ। কমিউনিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং তাঁদের আন্তরিক শুভেচ্ছা এই মুহূর্তকে আরও বিশেষ করে তোলে। প্রবাসজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ব্যবসা ও সেবামূলক খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করার স্বীকৃতি হিসেবে এই অ্যাওয়ার্ড নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন বলে উপস্থিত সবাই মনে করেন।



