Sunday, January 4, 2026
spot_img
Homeঅন্যান্যইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজা

ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজা

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত ৪৪ দিনের মধ্যে অন্তত ৪৯৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি কার্যকর থাকলেও একের পর এক হামলার মাধ্যমে কয়েক শ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর শনিবার এক ঘোষণায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত শিশু, নারী ও প্রবীণসহ ৩৪২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে দপ্তরটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী গুরুতর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সংস্থাটির দাবি, শুধু গতকালই ইসরায়েল ২৭ বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙেছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে চালানো এসব হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৮৭ জন। এই লঙ্ঘনের মানবিক এবং নিরাপত্তাজনিত পরিণতির জন্য ইসরায়েলকেই সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দপ্তর জানায়, গাজা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাসের এক সদস্য ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পর দেশটির সামরিক বাহিনী পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। দাবি করা হয়, অভিযানে হামাসের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিহত হয়েছে।

তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য জানান, ইসরায়েল যাঁদের নিহত বলে দাবি করছে, তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা উচিত। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে পাশ কাটানোর অজুহাত তৈরি করছে এবং আবারও বৃহৎ মাত্রার সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। তিনি মধ্যস্থতাকারী এবং মার্কিন প্রশাসনের প্রতি ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

গাজা নগরী থেকে এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিবেদক জানান, যুদ্ধবিরতি কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। কারণ, পুরো অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের রিপোর্টে বলা হয়, গাজার উত্তরাঞ্চলে বহু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। কারণ, ইসরায়েলি সেনারা চুক্তির শর্ত অমান্য করে বহু ভেতরে অবস্থান নিয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এ ছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জরুরি খাদ্য, ত্রাণ এবং চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও ইসরায়েল এখনো কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। এতে মানবিক সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments