ইতালির উত্তরাঞ্চলের মনোরম শহর বোলজানোতে ভ্রমণকারী কুকুরের ওপর নতুন কর আরোপের সিদ্ধান্ত ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অতিরিক্ত পর্যটনের প্রভাব কমানো এবং শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই পদক্ষেপকে অনেকেই স্বাগত জানালেও সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই কর নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকরা নানা মত দিচ্ছেন।
২০২৬ সাল থেকে বোলজানো শহরে বাইরে থেকে ঘুরতে আসা কুকুরদের মালিকদের প্রতিদিন দিতে হবে ১ দশমিক ৫০ ইউরো অর্থাৎ প্রায় দুই ডলার সমপরিমাণ কর। শুধু ভ্রমণকারীরা নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিটি কুকুরের জন্য বছরে দিতে হবে ১০০ ইউরো কর। প্রশাসন জানিয়েছে, এই রাজস্ব মূলত ব্যবহার করা হবে শহরের রাস্তা পরিষ্কার রাখার খরচ মেটাতে এবং কুকুর ও তাদের মালিকদের জন্য নতুন বিশেষায়িত পার্ক নির্মাণে। যদিও গুজব রয়েছে যে কুকুরদের সাধারণ সিটি পার্কে প্রবেশ সীমিত করা হতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এই কর আরোপের সিদ্ধান্ত এসেছে আরেকটি বিতর্কিত পদক্ষেপের পর। কিছুদিন আগে কুকুরের মল সংগ্রহ না করলে মালিক শনাক্ত করতে তাদের ডিএনএ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাদের কুকুরের ডিএনএ আগে থেকেই রেজিস্ট্রি করা রয়েছে তারা নতুন ভ্রমণকর থেকে দুই বছরের জন্য ছাড় পাবেন। বর্তমানে কুকুরের মল পরিষ্কার না করলে সর্বোচ্চ ৬০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে।
প্রাদেশিক কাউন্সিলর যিনি এই প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন তিনি বলেন, কুকুরমালিকদের জন্য এই কর ন্যায্য। কারণ শহরের রাস্তা নোংরা হওয়ার প্রধান কারণ কুকুরের বর্জ্য। তার মতে, পুরো সম্প্রদায়ের ওপর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার খরচ চাপানো ন্যায্য নয়, যখন সমস্যার উৎস একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। তাই যারা কুকুর নিয়ে শহরে প্রবেশ করবেন বা পোষা প্রাণী রাখবেন, তাদেরই এর দায়ভার নেওয়া উচিত।
তবে সবাই এই যুক্তি মেনে নিতে রাজি নন। দেশটির একটি শীর্ষ প্রাণী সুরক্ষা সংস্থার সভাপতি বলেন, এই কর বোলজানো অঞ্চলের জন্য একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তার ভাষ্যে, কুকুর এবং তাদের সঙ্গে ভ্রমণকারী পর্যটকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই কর শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত নয়, বরং এটি একটি ভুল বার্তা দেয় যে প্রাণীদেরও যেন করদাতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কুকুরের ডিএনএ প্রকল্প ইতোমধ্যে ব্যয়বহুল এবং অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং নাগরিক শিক্ষার পথ অনুসরণ করার বদলে আবারও সহজ পথে হাঁটল প্রশাসন।
সংস্থাটির মতে, এই কর পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। অনেক পরিবার বা পর্যটক যারা কুকুরকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখে তাদের জন্য এটি ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে দায়িত্বশীল ভ্রমণের প্রবণতা কমে যেতে পারে এবং সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে কুকুর পরিত্যাগের ঘটনাও বাড়তে পারে। তার মতে, পর্যটন এবং আতিথেয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া এমন একটি অঞ্চলে কুকুরসহ ভ্রমণকারীদের প্রতি নেতিবাচক বার্তা দেওয়া মোটেও সুবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ নয়।
পুরো বিষয়টি নিয়ে শহরে দুই ধরনের মতামত স্পষ্টভাবে তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ মনে করে পরিবেশ রক্ষা এবং সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই কর জরুরি। অন্যদিকে আরেক পক্ষ বলছেন, এটি বৈষম্যমূলক এবং প্রাণীপ্রেমী পরিবারগুলোর জন্য অযৌক্তিক চাপ। সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই বিষয়টি নিয়ে ইতালি জুড়ে আলোচনা চলছে এবং শেষ পর্যন্ত এটি কার্যকর হলে পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয়দের ওপর এর প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।



