বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ বসবাস করছে যুক্তরাষ্ট্রে। কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা ও উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়লেও সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আজও অটুট। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমেরিকায় গড়ে উঠছে এক স্বতন্ত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান সংস্কৃতি, যেখানে বাঙালিয়ানার সঙ্গে মিশে আছে পাশ্চাত্য জীবনের ছোঁয়া।
আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা পরিবারের ভেতরে বাংলা ভাষা চর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। শিশুদের বাংলা শেখাতে অনেক পরিবার বাসায় নিয়মিত বাংলা চর্চা করে, আবার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গড়ে উঠেছে বাংলা স্কুল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
বিশেষ করে পারিবারিক বন্ধন, বড়দের সম্মান ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা এখনো তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রবাসে থেকেও বাংলা নববর্ষ, ঈদ, দুর্গাপূজা ও শহীদ দিবসের মতো জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবগুলো ব্যাপকভাবে উদযাপন করা হয়। বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও মসজিদে আয়োজন করা হয় মিলনমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা।
এই আয়োজনগুলো নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তুলছে বলে মনে করছেন কমিউনিটি নেতারা।
বাংলাদেশি খাবার প্রবাসী জীবনে এক বিশেষ আবেগের জায়গা দখল করে আছে। বিরিয়ানি, ভাত-ডাল, ইলিশ কিংবা পিঠা—সবই নিয়মিত স্থান পায় পারিবারিক আয়োজনে। অনেক অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি স্টোর গড়ে উঠেছে, যা সংস্কৃতি ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ অনুষ্ঠান ও উৎসবে শাড়ি, পাঞ্জাবি ও লুঙ্গির ব্যবহার এখনও জনপ্রিয়।
আমেরিকায় জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্ম দুই সংস্কৃতির সংমিশ্রণে বেড়ে উঠছে। তারা একদিকে আধুনিক আমেরিকান জীবনধারায় অভ্যস্ত, অন্যদিকে পরিবার ও কমিউনিটির মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত থাকছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বৈত সাংস্কৃতিক পরিচয় তাদেরকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে।
আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সংস্কৃতি আজ আর কেবল দেশের অনুকরণ নয়, বরং এক নতুন পরিচয়ের প্রতিফলন। শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখে আধুনিক জীবনধারার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এই যাত্রা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংস্কৃতিকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা।



