Sunday, January 4, 2026
spot_img
Homeবাংলাদেশআগামী নির্বাচনে বাহিনীর ঐতিহাসিক দায়িত্ব

আগামী নির্বাচনে বাহিনীর ঐতিহাসিক দায়িত্ব

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটকে দেশের ভবিষ্যতের এক অসাধারণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে আয়োজিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতি গঠনে বাহিনীর দীর্ঘদিনের অবদানকে উচ্চ প্রশংসা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অগ্রগতি এবং রাষ্ট্র নির্মাণে সশস্ত্র বাহিনীর নিরলস ভূমিকা সর্বদাই প্রশংসিত। দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করে চলেছেন, তা দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংকটের মুহূর্তে বাহিনীর উপস্থিতি জাতীয় আস্থা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের প্রসঙ্গে বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। জনগণ যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই হবে সশস্ত্র বাহিনীর একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটাররা যখন ভোট দিতে ঘর থেকে বের হবেন, তখন দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এই নির্বাচনী মুহূর্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গর্বের সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

দেশের সংকটময় সময়ে বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কিংবা মহামারির মতো পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাহিনীর সদস্যরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়ে চলেছেন। তাদের এই অবদান বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশের এক উজ্জ্বল পরিচয়।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের। ডিসেম্বরকে বিজয়ের মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মাস আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। যেসব বীর শহীদ স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, জাতি চিরদিন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। তিনি আরও স্মরণ করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে তাঁদের অবদান অবিস্মরণীয়।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানের আনন্দঘন পরিবেশে তিনি বলেন, সকলের প্রার্থনায় তিনি দ্রুত সুস্থতা ফিরে পান এই কামনা করা উচিত।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স সম্পন্ন করা একটি অনন্য গৌরব। বহু দিনের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের প্রতিফলন এই গ্র্যাজুয়েশন। তিনি বলেন, এই অর্জন ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা, নীতি নির্ধারণ, রাষ্ট্র পরিচালনা ও কৌশল প্রণয়নে তাদের আরও দক্ষ করে তুলবে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এমন নেতৃত্ব তৈরি করতে কাজ করছে যারা ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম। তিনি উল্লেখ করেন, এশিয়ার দিকে অর্থনৈতিক কেন্দ্রিকরণের যে বৈশ্বিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তার কেন্দ্রে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অন্যতম দায়িত্ব বলে তিনি মত দেন।

এই বিস্তৃত বক্তব্যে তিনি দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments