আইডাহো রেইডে আটক ১৬ অভিবাসীর মুক্তির নির্দেশ

ফেডারেল আদালত আইডাহোতে এফবিআই পরিচালিত সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ১৬ জন অভিবাসীকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের মতে, বিনা জামিনে দীর্ঘদিন আটকে রাখা তাদের সংবিধানসম্মত অধিকার লঙ্ঘন করেছে, তাই চলমান অভিবাসন মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের মুক্ত অবস্থায় থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত।

মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জানান যে আটক ব্যক্তিদের অনেকেই দীর্ঘ কয়েক দশক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং তাদের অপরাধমূলক ইতিহাস নেই। আদালতের নথিতে উল্লেখ আছে, তাদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সঙ্গীর সঙ্গে বিবাহিত এবং কারও কারও সন্তানও নাগরিক।

এক বিবৃতিতে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায় যে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইনসম্মতভাবেই অভিযানের সময় গ্রেপ্তার কার্য সম্পন্ন করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী একজন পক্ষপাতদুষ্ট বিচারক আইন ভঙ্গকারীদের মুক্তভাবে ঘোরাফেরার সুযোগ দিচ্ছেন। বিভাগের আরও দাবি, বর্তমান প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং যাদের দেশে থাকার অধিকার নেই তাদের আটক ও বিতাড়নের নীতি অব্যাহত থাকবে।

গত ১৯ অক্টোবর ওয়াইল্ডার এলাকার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন খোলা রেসট্র্যাক এলাকায় অভিযানের নেতৃত্ব দেয় এফবিআই। অবৈধ জুয়া কার্যক্রমের সন্দেহে চালানো ওই অভিযানে অন্তত ১৪টি সংস্থার দুই শতাধিক কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিবাসন ও সীমান্ত রক্ষী কর্মকর্তারাও অভিযানে যুক্ত ছিলেন। কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রায় চারশ মানুষকে আটকে রাখা হয়, যাদের মধ্যে বহু মার্কিন নাগরিকও ছিলেন।

ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন যে কর্মকর্তারা কঠোর পদ্ধতি ব্যবহার করেন এবং শিশুদের হাত বেঁধে রাখা কিংবা অভিভাবক থেকে আলাদা করে রাখার মতো ঘটনা ঘটে। তবে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে এফবিআইয়ের মুখপাত্র প্রথমে জানান শিশুদের ওপর কোনো রকম বলপ্রয়োগ হয়নি, যদিও পরে সেই বিবৃতি সংশোধন করে বলা হয় যে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে রাবার বুলেট ও রেসট্রেইন্ট ব্যবহার করা হয়নি।

অভিযানে জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগে খুব কম সংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হলেও অভিবাসন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের অনেকেই আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার আগেই স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার সম্মতিপত্রে সই করতে বাধ্য হন বলে জানায় আটক ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি আইন সংস্থা।

সরকারি নথি অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ১৮ জন আদালতে জামিনের আবেদন করেছেন। একজনের আবেদন তথ্যগত ঘাটতির কারণে প্রাথমিকভাবে খারিজ হলেও তাকে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আরেকজনকে অন্য রাজ্যের আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করায় তিনি আলাদা একটি ফেডারেল আদালতে মুক্তির আবেদন করেছেন।

বিচারক মন্তব্য করেন যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দেশের ভেতরে বসবাসকারীদের আইনি অবস্থানের পার্থক্য বহুদিনের আইনি রীতি হিসেবে বিবেচিত।

আইনজীবী জানান যে মুক্তি পাওয়া অভিবাসীরা পরিবারের সঙ্গে থাকবেন এবং আদালতে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেওয়া হবে। তার মতে, অভিবাসন আদালতের তিন মিলিয়নেরও বেশি মামলার জটে তাদের শুনানির তারিখ পেতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

এদিকে বর্তমান প্রশাসন বিচারকদের সংখ্যা কমানো, সামরিক আইনজীবীদের অস্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ এবং আশ্রয় প্রার্থীদের মামলাকে দ্রুত খারিজ করার মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আদালতের করিডোরেই অনেককে পুনরায় গ্রেপ্তারের নজিরও বেড়েছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed