Sunday, January 4, 2026
spot_img
Homeখেলার জগৎঅস্ট্রেলিয়ার দাপটে দুই দিনে ইংল্যান্ড বিধ্বস্ত

অস্ট্রেলিয়ার দাপটে দুই দিনে ইংল্যান্ড বিধ্বস্ত

অ্যাশেজের পার্থ টেস্টে শুরুর সকালটি ছিল সম্পূর্ণভাবে ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে। অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৩২ রানে থেমে যাওয়ায় প্রথম ইনিংসে ৪০ রানের লিড পেয়ে স্বস্তির হাওয়া বইছিল অধিনায়ক স্টোকসের দলের ক্যাম্পে। ম্যাচের প্রবাহ শুরুতে যেভাবে ইংল্যান্ডের দিকে ঝুঁকে ছিল, তা দেখে মনে হয়েছিল প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেই দিনটি শেষ করবে তারা। কিন্তু দিনের দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পাল্টে যায় নাটকীয়ভাবে। সফরকারী ইংল্যান্ডকে দুঃস্বপ্নে ডুবিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ব্যাটার হেড, যিনি একাই ম্যাচের রং বদলে দেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং প্রদর্শন করে। তবে সবচেয়ে বড় ঝড় তোলেন হেড। মাত্র ৮৩ বল খেলে তিনি করে ফেলেন ১২৩ রান, যা পুরো ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট ছিল। ইনিংসের শুরুতে সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং ইংলিশ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন।

চাপের ম্যাচে এমন ইনিংস খেলতে গিয়ে হেড পৌঁছে যান আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জনের কাছেও। তিনি মাত্র ৬৯ বলে স্পর্শ করেন তিন অঙ্ক, যা টেস্ট ক্রিকেটের চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়ায় দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন বিশ্বরেকর্ড। ইংল্যান্ডের বোলাররা যত পরিকল্পনাই করুক না কেন, হেডের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে কিছুই কাজ করেনি। একের পর এক বাউন্ডারি আর সঠিক সময়ে শট নির্বাচন করে তিনি এমনভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেন, যেন লক্ষ্য তাড়ার চাপ বলে কিছুই নেই।

দলের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যাটাররা যখন稳ভাবে সাপোর্ট দিচ্ছিলেন, তখন হেড চলছিলেন নিজের গতিতেই। ইংলিশ বোলারদের উইকেট নেওয়ার প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়। শর্ট বল, লেংথ বল কিংবা অফ স্টাম্পের বাইরে বলে প্রলুব্ধ করা— কোনোটিই ফল এনে দিতে পারেনি। বোলারদের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ হেড প্রতিটি ভিন্ন ধরনের ডেলিভারিকেই দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করছিলেন।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস শেষে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল তা মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। ম্যাচের শুরুতে দৃঢ়তার যে চিত্র দেখিয়েছিলেন স্টোকসরা, দিনের শেষে তার সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্য দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়া মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে সহজেই পৌঁছে যায় লক্ষ্যে। যে ম্যাচটি ইংলিশদের জন্য হতে পারত মোড় ঘোরানোর সুযোগ, সেটি পরিণত হয় বিব্রতকর পরিসংখ্যানে ভরা এক পরাজয়ে।

এমন হারের ফলে ইংল্যান্ডের সামনে উঠে আসে ব্যাটিং এবং বোলিং দুটি ইউনিটেই প্রশ্ন। প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারা, বোলারদের অসামর্থ্য এবং ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা মিলিয়ে পুরো দলই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলে। বিপরীতে, অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিং রুমে উচ্ছ্বাসের জোয়ার। বিশেষ করে হেডের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ম্যাচটিকে এনে দেয় সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা।

পার্থের এই টেস্ট দুই দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ায় অ্যাশেজ প্রতিযোগিতায় নতুন উত্তেজনা যোগ হয়েছে। একদিকে ইংল্যান্ডকে ভাবতে হবে কীভাবে এমন বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা যায়, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া পাবে আত্মবিশ্বাসের নতুন শক্তি। আর এই সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন বাঁহাতি ব্যাটার হেড, যিনি নিজের ব্যাটে লিখেছেন আরেকটি রেকর্ডের গল্প।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments