Saturday, January 3, 2026
spot_img
Homeইমিগ্রেশন তথ্যঅভিবাসীদের জরিমানা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই

অভিবাসীদের জরিমানা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই

ফেডারেল কর্তৃপক্ষের আরোপিত ভারী নাগরিক জরিমানার বিরুদ্ধে অভিবাসীদের পক্ষে বৃহস্পতিবার একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, এই জরিমানাগুলো এতটাই কঠোর যে অনেকের জন্য তা প্রায় ধ্বংসাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ১.৮ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার হারে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে তাদের কাছ থেকে, যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দেশে অবস্থান করলেও আইনগত প্রক্রিয়া মেনে চলার চেষ্টা করছিলেন। এই জরিমানা ইতোমধ্যে ২১ হাজার ৫০০ এরও বেশি ব্যক্তির ওপর আরোপ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, জরিমানার পরিমাণ কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট অভিবাসন লঙ্ঘনের গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটিকে অসাংবিধানিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যাসাচুসেটসের একটি আদালতে দাখিল করা এই মামলাটি দাখিল করা হয়েছে দুই নারী অভিবাসীর পক্ষে এবং এটি শ্রেণিমূলক মর্যাদা পাওয়ার আবেদন জানায়, যাতে বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর অভিবাসন দমন নীতির কারণে আরোপিত কয়েক বিলিয়ন ডলারের জরিমানার বিরুদ্ধে বৃহত্তর পরিসরে প্রতিকার পাওয়া যায়। আইনজীবীদের দাবি, চলতি বছরেই আরোপিত জরিমানার মোট পরিমাণ ৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

মামলাটি পরিচালনাকারী আইনি সংস্থাগুলোর একটির তত্ত্বাবধায়ক অ্যাটর্নি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অভিবাসীরা আইন অনুযায়ী আদালত ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বৈধতার প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও সরকার তাদের বেতন, যানবাহন এমনকি বাড়িঘর পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে স্বদেশ সুরক্ষা দপ্তর পুরো মামলাটিকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনকে অকার্যকর করার আরেকটি প্রচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। দপ্তরের এক সহকারী সচিব এক বিবৃতিতে দাবি করেন, মামলার বাদীরা দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং কোনো ধরনের পরিণতি বা শাস্তি ছাড়াই থাকতে চেয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছেন, যা দীর্ঘদিনের ফেডারেল আইনের পরিপন্থী।

মামলার দুই নারীর একজন ফ্লোরিডার বাসিন্দা। অভিযোগে বলা হয়, তাকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তদারকি আদেশের আওতায় থেকে প্রতি বছর অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে তিনি প্রায় ১.৮ মিলিয়ন ডলারের একটি বিল পান। ধারণা করা হচ্ছে, গত পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার হারে জরিমানার মোট অংক হিসেব করে এই বিল তৈরি করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পর থেকেই প্রশাসন অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বদেশ সুরক্ষা দপ্তর ঘোষণা করে যে, যেসব ব্যক্তি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দেশে অবস্থান করছেন, তাদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক জরিমানা গুনতে হতে পারে যদি তারা দেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এ সময় স্বদেশ সুরক্ষা সচিব ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, অবৈধভাবে দেশে অবস্থানকারীদের এখনই দেশ ত্যাগ করা উচিত। তারা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসন সব ধরনের অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন করবে এবং কোনো আইনকে বেছে বেছে প্রয়োগ করা হবে না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments