এক নজরে জেনে নিন কন্যাশিশুর ৯ স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য

একটি নবজাতক কন্যাশিশুর আগমন পরিবারে নিয়ে আসে আনন্দ, ভালোবাসা ও নতুন স্বপ্ন। তবে জন্মের পর শিশুর শরীরে কিছু পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক মনে হওয়া কিছু লক্ষণ দেখে অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বাস্তবে এসবের অনেকগুলোই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রেগন্যান্সি ও প্যারেন্টিংবিষয়ক আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘মামজংশন’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কন্যাশিশুর জন্মের পর এমন কয়েকটি বিষয় দেখা যেতে পারে, যা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রথমত, অনেকেই জানেন না যে কিছু কন্যাশিশুর জন্মের পর অল্পমাত্রায় রক্তক্ষরণ হতে পারে। জন্মের প্রথম সপ্তাহে ডায়াপারে কয়েক ফোঁটা রক্ত দেখা গেলে তা দেখে অভিভাবকেরা ভয় পেয়ে যান। তবে এটি বিরল হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে স্বাভাবিক ঘটনা। গর্ভে থাকার সময় মায়ের ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে শিশুর শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে, জন্মের পর সেই হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার ফলে এমন সাময়িক রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি কয়েক দিনের মধ্যে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

দ্বিতীয়ত, নবজাতকের স্তন ফুলে যাওয়া বা সামান্য দুধ নিঃসরণও স্বাভাবিক। শুধু কন্যাশিশুই নয়, ছেলে নবজাতকদের ক্ষেত্রেও এটি দেখা যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরের হরমোনের প্রভাবেই এমনটি ঘটে। চিকিৎসকেরা এ সময় স্তন চেপে দুধ বের করার চেষ্টা না করার পরামর্শ দেন, কারণ এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাধারণত কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে এটি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

তৃতীয়ত, জন্মের সময় কন্যাশিশুর ওজন সাধারণত ছেলেশিশুর তুলনায় কিছুটা কম হয়। গড় হিসাবে ছেলেশিশুর জন্ম ওজন যেখানে প্রায় ৭ পাউন্ড ১০ আউন্স, সেখানে কন্যাশিশুর গড় ওজন প্রায় ৭ পাউন্ড ২ আউন্স। পার্থক্য খুব বেশি না হলেও পরিসংখ্যানগতভাবে এটি একটি স্বীকৃত বিষয়।

চতুর্থত, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কন্যাশিশুরা অনেক সময় ছেলেশিশুর তুলনায় মাতৃগর্ভে সামান্য বেশি সময় অবস্থান করে। নির্ধারিত সময়ের এক বা দুই দিন পর তাদের জন্ম হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যদিও বিষয়টি মায়ের শারীরিক অবস্থা ও বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপরও নির্ভরশীল।

পঞ্চমত, জন্মের সময় কন্যাশিশুর মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি প্রতিসম বা সিমেট্রিক্যাল হতে পারে। একই সঙ্গে তাদের মস্তিষ্কে ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটারের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি থাকার তথ্য বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। স্মৃতি, আবেগ, চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই অংশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ষষ্ঠত, অনেক কন্যাশিশুর মাথার তালুতে খসখসে বা তৈলাক্ত আবরণ দেখা যায়, যাকে ক্র্যাডল ক্যাপ বলা হয়। অনেকেই একে শুধুমাত্র ছেলেশিশুর বৈশিষ্ট্য মনে করলেও বাস্তবে মেয়েশিশুর ক্ষেত্রেও এটি দেখা যায়। এটি সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে সেরে যায়, যদিও কিছু ক্ষেত্রে দুই বা তিন বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।

সপ্তমত, ছোট্ট শিশুকে মাঝে মাঝে চোখ ট্যারা করতে দেখা গেলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। শিশুদের চোখের পেশি ও দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। নতুনভাবে চোখের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ শেখার অংশ হিসেবে তারা কখনো কখনো চোখ বাঁকা বা ট্যারা করতে পারে। এটি তাদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশের অংশ।

অষ্টমত, জন্মের সময় কিংবা জন্মের কিছুদিন পর অনেক কন্যাশিশুর স্তন কিছুটা বড় দেখাতে পারে। এটিও মূলত মায়ের হরমোনের প্রভাবে ঘটে। শিশুর শরীরে অবশিষ্ট হরমোনের কারণে এমন পরিবর্তন দেখা দিলেও এটি ভবিষ্যৎ শারীরিক বিকাশে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।

নবমত, জন্মের পর শিশুর মাথার চুল ঝরে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। গর্ভাবস্থায় মায়ের হরমোনের প্রভাবে যে চুল গজায়, জন্মের পর হরমোনের মাত্রা কমে গেলে সেই চুল ঝরে যেতে পারে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই নতুন চুল গজায়। অনেক ক্ষেত্রে নতুন চুলের রং বা গঠন আগের চুলের চেয়ে ভিন্নও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতক কন্যাশিশুর শরীরে দেখা দেওয়া এসব পরিবর্তনের বেশির ভাগই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ। তাই এসব লক্ষণ দেখেই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed