ঈদ, দাওয়াত কিংবা পারিবারিক বিশেষ আয়োজন—যেকোনো উৎসবের খাবারের তালিকায় খাসির কোরমা সব সময়ই আলাদা গুরুত্ব পায়। ঘন ঝোল, মসৃণ মসলা আর ঘি-মালাইয়ের সমৃদ্ধ স্বাদ এই পদকে অন্যসব মাংসের রান্না থেকে আলাদা করে তোলে। সাধারণ খাসির মাংসের রান্নার তুলনায় কোরমার স্বাদ হয় অনেক বেশি কোমল ও রাজকীয়। বিশেষ করে যারা একটু ভিন্ন স্বাদের মাংস খেতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই রেসিপি হতে পারে আদর্শ পছন্দ।
খাসির কোরমা রান্নায় মসলার ভারসাম্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজন ধৈর্য ও সঠিক কষানো। মাংসের সঙ্গে দই, বাদামবাটা, দুধ ও মালাই মিশে তৈরি করে এক অনন্য স্বাদ। ফলে খাবারটি শুধু সুগন্ধেই নয়, স্বাদের দিক থেকেও হয়ে ওঠে অসাধারণ।
এই রেসিপির জন্য প্রয়োজন হবে ২ কেজি খাসির মাংস। এর সঙ্গে লাগবে ২ টেবিল চামচ আদাবাটা, দেড় টেবিল চামচ রসুনবাটা এবং ৩ টেবিল চামচ পেঁয়াজবাটা। বাদামের ঘন স্বাদ আনতে ব্যবহার করতে হবে ২ টেবিল চামচ কাঠবাদাম ও কাজুবাদামবাটা। এছাড়া ১ চা–চামচ গরমমসলার গুঁড়া, আধা চা–চামচ জায়ফল–জয়ত্রীগুঁড়া এবং ১ চা–চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া প্রয়োজন হবে।
রান্নাকে আরও মজাদার করতে লাগবে ১ কাপ টক দই, ৩ টেবিল চামচ টমেটো সস, ১ চা–চামচ ধনেগুঁড়া, ২ চা–চামচ জিরাগুঁড়া ও ১ চা–চামচ মরিচগুঁড়া। স্বাদমতো লবণের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে আধা কাপ তেল ও পৌনে ১ কাপ ঘি। এছাড়া ১ কাপ দুধ, ২ টেবিল চামচ চিনি, স্বাদমতো তেঁতুলের ক্বাথ এবং আধা কাপ মালাই এই রান্নার স্বাদকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
সুগন্ধ বাড়াতে লাগবে ১ টেবিল চামচ কেওড়া, ৮টি আলুবোখারা, ৮টি কাঁচা মরিচ এবং আধা কাপ পেঁয়াজ বেরেস্তা।
রান্নার শুরুতে খাসির মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর মাংসের সঙ্গে টক দই, সামান্য আদা-রসুনবাটা, পেঁয়াজবাটা ও লবণ মিশিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখতে হবে। এতে মাংস নরম হবে এবং মসলার স্বাদ ভেতরে ভালোভাবে ঢুকে যাবে।
এরপর একটি বড় কড়াইতে তেল ও আধা কাপ ঘি গরম করে পেঁয়াজ ভেজে নিতে হবে। পেঁয়াজ হালকা বাদামি হলে তাতে একে একে আদাবাটা, রসুনবাটা, পেঁয়াজবাটা এবং অন্যান্য বাটা মসলা দিয়ে কষাতে হবে। পরে গরমমসলা ও গুঁড়া মসলা যোগ করে কিছুক্ষণ নাড়তে হবে, যাতে মসলার কাঁচা গন্ধ দূর হয়ে যায়।
এরপর মেরিনেট করা মাংস কড়াইতে দিয়ে ভালোভাবে কষাতে হবে। ধীরে ধীরে মাংস থেকে পানি বের হবে এবং মসলার সঙ্গে মিশে ঘন রং ধারণ করবে। যখন দেখা যাবে তেল ওপরে উঠে এসেছে, তখন পরিমাণমতো গরম পানি ও আলুবোখারা দিয়ে ঢেকে রান্না করতে হবে।
মাংস নরম হয়ে ঝোল কমে এলে তাতে চিনি, দুধ, বাদামবাটা, কেওড়া ও কাঁচা মরিচ যোগ করে কিছুক্ষণ নেড়ে নিতে হবে। এতে কোরমায় আসবে হালকা মিষ্টি ও সুগন্ধি স্বাদ। এরপর পেঁয়াজ বেরেস্তা ও সামান্য গরমমসলার গুঁড়া ছড়িয়ে দিতে হবে।
সবশেষে মালাই ও বাকি ঘি মিশিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। এতে কোরমার ঝোল হবে আরও মসৃণ ও সমৃদ্ধ।
পরিবেশনের সময় গরম গরম খাসির কোরমা পোলাও, নান কিংবা পরোটার সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। সুগন্ধি এই রান্না যেকোনো পারিবারিক আয়োজনের টেবিলে এনে দিতে পারে রাজকীয় আমেজ।





Add comment